ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। এ সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি পালনের হুমকি দিয়েছেন তারা।
আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন ডাক্তার সোসাইটির (আইডিএস) সাধারণ সম্পাদক নাবিল বিন কাশেম এ ঘোষণা করেন।
নাবিল বিন কাশেম বলেন, ‘হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ চারটি কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের চার দফা দাবি ছিল। বেশির ভাগ দাবিই বাস্তবায়নের জন্য এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি সুপারিশে উল্লেখ করেছে বলে জানতে পেরেছি। এখন সরকারের কাছে দাবি, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আমরা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পরবর্তীতে আমরা কঠোর কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
পূর্বাহ্নে হামলার প্রতিবাদে শনিবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মিলন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হয় ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে তারা হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। পরবর্তীতে ইন্টার্ন ডাক্তার সোসাইটির নেতারা সংবাদ সম্মেলন করেন।
৮ এপ্রিল বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে চিকিৎসকদের হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সানিম (২৩) জ্বর ও পেটব্যথায় জরুরি বিভাগে যান। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে একটি ওষুধ লিখে বাইরে থেকে কিনতে বলেন। সানিমের অভিযোগ, আশপাশের ফার্মেসিতে ওষুধটি না পেয়ে বিকল্প ওষুধের অনুরোধ করলে চিকিৎসক অশোভন আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে স্কেল দিয়ে মারার চেষ্টা করেন। এরপর সানিম ক্যাম্পাসে গিয়ে আরও সাত-আটজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসেন। তারা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে ওই চিকিৎসককে টানাহেঁচড়া করা হয় এবং তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে চিকিৎসক বাইরে বের হওয়ার সময় আবার ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি ঘটে। এর প্রতিবাদে চিকিৎসকেরা কাজ ফেলে ওয়েটিং রুমে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।






