জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নাজমুল হাসান নামের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আজ শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আজিজুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের (৫২ ব্যাচ) এক শিক্ষার্থী একই সঙ্গে জাবি ও ঢাবিতে ভর্তি আছেন—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নাজমুল হাসান ২০২২ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি ওই বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগে সুযোগ পান এবং স্নাতক (সম্মান) ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। তাঁর ক্লাস রোল ১১৮০ এবং বর্তমানে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন।

২০২২ সালে একই সনদ ব্যবহার করে নাজমুল হাসান ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তবে সেই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাননি। গত কয়েক বছরের নিয়মানুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকে (সম্মানে) একজন শিক্ষার্থী একবারই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। কিন্তু নাজমুল হাসান পরের বছর মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে নারায়ণগঞ্জ বন্দর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেন। এরপর আলিমের সনদ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ভর্তি পরীক্ষা দেন এবং মেধাতালিকায় ৪৩৬তম হয়ে ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নাম নাজমুল হাসান (সিয়াম) থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নাম নাজমুল হাসান। ঢাবিতে তাঁর ক্লাস রোল ৩১ এবং তিনি কবি জসিম উদ্‌দীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

সম্প্রতি এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হতে থাকে। এরপর বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা।

একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করলে আইনের ব্যত্যয় ঘটে কি না, জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, একই সঙ্গে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে সমমনা ডিগ্রিতে ভর্তি থাকা রাষ্ট্রীয় অপরাধ ও নৈতিকতা বিরোধী। তাঁর বিষয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। আগামীকাল রোববার কমিটির প্রথম সভা হবে। সেখানে বিষয়গুলো আলোচনা করা হবে। যদিও ইতিমধ্যে ওই শিক্ষার্থী তাঁদের ফোন করে জানিয়েছেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বাতিল করেছেন।