বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারের বিশাল দিঘির কুমির দেখতে দূরদূরান্ত থেকে অনেকে এসে ঘাটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মাজারের দক্ষিণের প্রধান ঘাটে হঠাৎ একটি কুকুরকে কুমির টেনে নিয়ে যায়। সেই দৃশ্য দেখছিলেন ও ভিডিও করছিলেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু অসহায় কুকুরটিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি। এ ঘটনায় তারকা-কলাকুশলীদের মধ্যে কেউ কেউ মানবিকতার অভাব ঘটেছে বলে মনে করছেন। মনুষ্যত্ব থাকলে এমন ঘটনা এড়ানো যেত।

প্রাণী অধিকার নিয়ে সবসময় সোচ্চার অভিনেত্রী জয়া আহসান এ ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন পোস্ট। তাঁর পোস্টে লেখা, “একজনের কনটেন্ট বানানো আর মজা করার জন্য যে তাকে নির্মমভাবে অনর্থক মরতে হবে, এটা সে বোঝেনি। বোকা কুকুর!” এই পোস্টে অভিনেত্রী দীপা খন্দকার লিখেছেন, “ভয়ানক।”

অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ মনে করেন, দেশের অনেক মানুষ দিন দিন অসভ্য হয়ে উঠছে। তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “ঘটনাটা এতক্ষণে হয়তো আপনারা সবাই জানেন। আসলে এ দেশে মানুষের চেয়ে অমানুষের সংখ্যা বেশি। সভ্যদের চাইতে অসভ্যর সংখ্যা বেশি। দেশ খারাপ না ভাই, দেশের মানুষগুলো খুব খারাপ! তাই দেশটা আগায় না।” তিনি সরকারের কাছে মিনতি জানান, “মাননীয় সরকার, দেশের মানুষগুলো ঠিক করেন, দেশ অটো ঠিক হয়ে যাবে।”

গায়ক তানজীব সারোয়ার ফেসবুকে লিখেছেন, “মৃত্যুর আগপর্যন্ত তাকিয়ে ছিল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ও ভেবেছিল, ওর এই বিশ্বস্ত লোকটা তাকে বাঁচাবে। কিন্তু এখানে কুমিরের দোষ নেই; কারণ, কুমিরের খিদে পেলে সে দেখামাত্রই খেয়ে ফেলে। আর এখানে নিরীহ কুকুর, এটাই কি মনুষ্যত্ব?” প্রাণীদের ব্যাপারে সোচ্চার অভিনেতা নিলয় আলমগীর কুকুরপ্রেমী হিসেবে পরিচিত। তিনি ফেসবুকে জানিয়েছেন, “প্রশাসনের উচিত খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।” পরিচালক অং রাখাইন মনঃক্ষুন্ন হয়ে লিখেছেন, “এই জাতি আগামী ১০০ বছর টিকে থাকতে পারবে কি না।”

এদিকে, মাজারের খাদেম, নিরাপত্তা প্রহরী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ৮ এপ্রিল, বুধবার বিকেলের। মাজারের দিঘির কাছে একটি অসুস্থ কুকুর শিশুসহ কয়েকজনকে কামড় দেয়। কয়েকজন তখন কুকুরটিকে তাড়াতে লাঠি ছুড়ে মারে। কুকুরটি নারীদের ঘাট থেকে মূল ঘাটের দিকে দৌড় নেয়। সেখানে গিয়ে মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকানকে আঁচড় দেয়। তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। এরপর কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়।