জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বেতন নিয়ে সবাই কৌতূহলী। কিন্তু বিসিবির কাছ থেকে বেতন পান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলা আরও এক শর বেশি ক্রিকেটার। শুরুতে বেতন ছিল কম, এখন তা বেড়ে মন্দ নয়।

২০১২ সালে প্রথমবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের চুক্তিবদ্ধ করে তাঁদের বেতনের আওতায় নেয় বিসিবি। তখন তিন শ্রেণিতে ১০০ ক্রিকেটারকে দেওয়া হয় ১৫, ২০ ও ২৫ হাজার টাকা করে বেতন। চার দফায় বৃদ্ধি পেয়ে এখন সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার টাকা। সর্বশেষ বৃদ্ধির ঘোষণা গত বুধবার।

কতজন বেতন পান, কীভাবে নির্ধারিত হয়

জাতীয় লিগ ও বিসিএলে খেলা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে বেতন দেওয়া হয়। এ বছর ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১৬ জন, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ১১ জন ও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৭৭ জন ক্রিকেটার। শুরুতে ম্যাচ খেলার সংখ্যা বিবেচনায় ক্যাটাগরি নির্ধারণ হতো, এখন যোগ হয়েছে পারফরম্যান্সও।

প্রতি ম্যাচে ১ পয়েন্ট, ফিফটিতে ২ পয়েন্ট, সেঞ্চুরিতে ৪ পয়েন্ট ও ৫ উইকেট নিতে ৪ পয়েন্ট। ২০০-এর বেশি পয়েন্ট হলে ‘এ’, ১০১-১৯৯ পয়েন্টে ‘বি’ ও ১০০-এর নিচে ‘সি’ ক্যাটাগরি।

কেন শুরু হয়েছিল বেতন ব্যবস্থা

বিপিএল ও জাতীয় লিগের পর বিসিএল চালু এবং গ্রাউন্ডসম্যানদের পে-রোলে আনার মতো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতনভুক্ত করার সিদ্ধান্ত সাবেক বিসিবি সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের আমলে হয়।

২০১২ সালে আর্থিক উন্নতির সঙ্গে তৎকালীন টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান গাজী আশরাফ হোসেন বোর্ড সভায় প্রস্তাব দেন। গতকাল তিনি বলেন, “জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বাইরেও যেন খেলোয়াড়দের নিয়মিত ভিত্তিতে ছোট আকারে হলেও আয় থাকে, সেটার জন্য এ উদ্যোগটা আমরা নিয়েছিলাম। তখন সবাই বাসে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেত, আমরা তাই জীবনবিমা ও স্বাস্থ্যবিমাও চালু করেছিলাম।”

চুক্তির শুরু থেকেই বেতনপ্রাপ্ত ফজলে মাহমুদ বলেন, “একসঙ্গে তখন ছয় মাসের বেতন দিত। জুন মাসে বৃষ্টির মৌসুম, তখন কোনো খেলা থাকত না, ওই সময়ে টাকাটা অ্যাকাউন্টে ঢুকত, ভালোই লাগত।” তাঁর শুরু হয়েছিল ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ১৫ হাজার টাকায়।

কতবার বেড়েছে বেতন, এখন কত টাকা

২০১২ সালে ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে ২৫, ২০ ও ১৫ হাজার টাকা। ২০১৬ সালে হয় ২৮, ২২ ও ১৭ হাজার। ২০২৩ সালে ৩৫, ৩০ ও ২৫ হাজার।

বিসিবির সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার করার সিদ্ধান্ত নাজমুল হাসানের আমলে হয়েছিল। তামিম ইকবালের দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয় বোর্ড সভায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত, এ বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর। তবে অঙ্ক বাড়িয়ে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৬৫ হাজার, ‘বি’তে ৫০ হাজার ও ‘সি’তে ৪০ হাজার টাকা।

এর মধ্যে যাতায়াতে উড়াল পথ, এসি বাস ও ভালো হোটেলের ব্যবস্থা হয়েছে। ম্যাচ ফি ২০১২ সালের ২০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার হয়ে সর্বশেষ বোর্ড সভায় এক লাখ টাকা।

নারী ক্রিকেটারদের বেতন-ম্যাচ ফি

ছেলেদের মতো নারী ক্রিকেটারদেরও বেতন-ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। দুই বছর আগে ৩৫ নারী ক্রিকেটারকে চুক্তিতে নেওয়া হয়, এবার বেতন ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা।

তিন বছর আগে ঘরোয়া ম্যাচ ফি ছিল এক হাজার, পরে পাঁচ হাজার। এখন ওয়ানডে ১৫ হাজার, টি-টুয়েন্টি ১০ হাজার ও দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় ২০ হাজার টাকা।

ক্রিকেটারদের প্রতিক্রিয়া

প্রায় দুই দশক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা মার্শাল আইয়ুব মুক্তকণ্ঠকে বলেছেন, “খুবই ভালো একটা উদ্যোগ। সুযোগ–সুবিধা না থাকলে খেলায় সিরিয়াসনেস থাকে না। এলাম, খেললাম, চলে গেলাম—এমন একটা ভাব থাকে। আমি কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলেছি, ওরা খুবই রোমাঞ্চিত।”