চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ছাত্র নাজমুল হোসেন উচ্চশিক্ষায় ছয় বছর ধরে একদিনও ক্লাসে অনুপস্থিত হয়নি। স্নাতকে পাঁচ বছর এবং স্নাতকোত্তরে এক বছর পড়াশোনা করেছেন তিনি। করোনার মহামারি সত্ত্বেও প্রতিটি অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন এবং বিভাগ থেকে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন।
নাজমুল ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি তাঁর স্নাতকোত্তর ক্লাস শেষ হয়েছে। ছয় বছরের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নানা কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও তাঁর উপস্থিতি ছিল শতভাগ। ফার্মেসি বিভাগের ইতিহাসে এটি একটি রেকর্ড, কারণ এর আগে কোনো শিক্ষার্থীর স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে শতভাগ উপস্থিতি ছিল না।
এই অর্জনের স্বীকৃতি স্বরূপ ২ এপ্রিল বিভাগের সাবেক সভাপতি মহি উদ্দিন ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স’ প্রদান করা হয়।
নাজমুল হোসেনের বয়স ২৬ বছর। অন্য বিভাগে স্নাতক চার বছরের হলেও ফার্মেসি বিভাগে এটি পাঁচ বছর লাগে। স্নাতকে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩ দশমিক ১৪। স্নাতকোত্তরের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে তিনি ভালো ফলের আশা করছেন। ফল পাওয়ার পর পিএইচডি করতে বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা তাঁর, এরপর দেশে ফিরে শিক্ষকতা করতে চান।
ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা আমার অভ্যাস ছিল। এ অভ্যাস বিশ্ববিদ্যালয়েও বজায় ছিল। প্রতিটি ক্লাসকে আমি শেখার সুযোগ হিসেবে দেখেছিনাজমুল হোসেন, শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
নাজমুলের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তুলপাই গ্রামে। বাবা মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ স্কুলশিক্ষক। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। স্কুলজীবন থেকেই নিয়মিত ক্লাসে যাওয়ার অভ্যাস তাঁর গড়ে উঠেছিল। তাঁর দাবি, দশম শ্রেণিতে অসুস্থতার কারণে টানা তিন দিন স্কুলে যাননি, তখন শিক্ষকরা খোঁজ নিতে বাড়িতে এসেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে তিনি ক্যাম্পাসের পাশের ভাড়া বাসার মেসে থেকে পড়াশোনা করছেন।
নাজমুল হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তিনি একসঙ্গে তিন থেকে ছয়টি টিউশন করিয়েছেন, তবু নিয়মিত ক্লাসে যেতেন। করোনার সময় দীর্ঘদিন শুষ্ক কাশি সত্ত্বেও অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত থাকতেন। বর্তমানে দুটি গবেষণাগারে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক স্কোপাস-ইনডেক্সড জার্নালে তাঁর চারটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। গত বছর ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে ‘ডিউক অব এডিনবার্গ ইন্টারন্যাশনাল গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন।
নিজের অর্জন সম্পর্কে নাজমুল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা আমার অভ্যাস ছিল। এ অভ্যাস বিশ্ববিদ্যালয়েও বজায় ছিল। প্রতিটি ক্লাসকে আমি শেখার সুযোগ হিসেবে দেখেছি। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা থেকেও আমি শিখেছি।’
নাজমুল হোসেনের বয়স ২৬ বছর। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগে স্নাতক চার বছরের হলেও ফার্মেসি বিভাগে স্নাতক শেষ করতে লাগে পাঁচ বছর। স্নাতকে এই শিক্ষার্থীর সিজিপিএ ছিল ৩ দশমিক ১৪। স্নাতকোত্তরের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে তিনি স্নাতকোত্তরে ভালো ফলের আশা করছেন।
নাজমুলের এই অর্জনে বিভাগের শিক্ষকরাও খুশি। ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, নাজমুল নিয়মিত ও মনোযোগী ছাত্র ছিলেন। তিনি দায়িত্বশীল ও গবেষণায় সক্রিয় একজন শিক্ষার্থী। তাঁর ভদ্রতা ও পরিশ্রম তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সভাপতি তানজিনা শারমিন বলেন, ‘শুধু উপস্থিতির ভিত্তিতে এই সম্মাননা দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো অন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা। ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে উঠবে। আমরা নাজমুলের সফলতা কামনা করছি।’






