জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাবেক দুই পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কোনো সমাধান নয় বলে অবস্থান করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। আজ শুক্রবার লন্ডনভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থা নিজেদের ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে এই মতামত জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) গতকাল বৃহস্পতিবার ঘোষিত রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টির আঞ্চলিক গবেষক রিহাব মাহামুর বলেছেন, ‘আবু সাঈদসহ জুলাই বিক্ষোভে পুলিশি সহিংসতার শিকার আরও অনেক ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি পাওয়ার দাবিদার। তবে কোনো আদালতেই মৃত্যুদণ্ডের স্থান নেই। এটি চূড়ান্ত নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর দণ্ড। আইসিটির ক্রমাগতভাবে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বাংলাদেশে ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই জাতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।’
রিহাব মাহামুর আরও বলেন, ‘অতীতেও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও অন্য বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে আইসিটি অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যায়বিচার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। আইসিটি পরিচালিত যেকোনো বিচারিক কার্যক্রমে কঠোরভাবে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের প্রতি মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আহ্বান জানিয়ে অ্যামনেস্টি বলেছে, পুরোপুরি এই শাস্তি বাতিলের লক্ষ্যে এর ব্যবহার স্থগিত করতে হবে।
প্রসঙ্গত, বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণা করেন। এতে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তাঁরা দুজনেই গ্রেপ্তার আছেন।
এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আবু সাঈদ হত্যাসহ শিক্ষার্থীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর বেআইনি অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ যাচাই করেছিল। তখন সংস্থাটি মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছিল।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সব ক্ষেত্রেই সব সময় মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে। সংস্থাটি মনে করে, এটি মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রে বর্ণিত জীবনের অধিকারের লঙ্ঘন।






