কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে একটি জেটি নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে পর্যটকরা সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবেন। একইসঙ্গে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) আরেকটি জেটি তৈরি হবে, যা এনএসইজেড-এর বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করতে পারবে।
এই দুটি জেটির নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। জেটি নির্মাণের পাশাপাশি আনুষঙ্গিক স্থাপনা তৈরি ও পরিচালনার কাজও তারাই করবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিআইডব্লিউটিএ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে এ লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বেজা কার্যালয়ে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়। একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেজা।
বেজার পক্ষে সংস্থার নির্বাহী বোর্ডের সচিব ও যুগ্ম সচিব জুলিয়া মঈন এবং বিআইডব্লিউটিএর পক্ষে পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) মো. সাইফুল ইসলাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) নজরুল ইসলাম, সালেহ আহমদ ও মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন। বিআইডব্লিউটিএর পক্ষে সেখানে ছিলেন চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেজা জানিয়েছে, চুক্তি অনুসারে জেটি ও আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণের জন্য এনএসইজেড-এ ৬ দশমিক ১৮ একর এবং সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে ৫ একর জমি ইতিমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। এই জেটি থেকে প্রাপ্ত নিট মুনাফা বেজা ও বিআইডব্লিউটিএ ৪৫:৫৫ অনুপাতে ভাগ করে নেবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বেজা ও বিআইডব্লিউটিএর মধ্যে হওয়া এই চুক্তি একটি মাইলফলক। বিনিয়োগকারীদের সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করে এবং জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্পাঞ্চলে পরিণত করতে এই জেটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
বেজার আরেক নির্বাহী সদস্য সালেহ আহমদ বলেন, নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে পর্যটন শিল্পের অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বিবেচনায় নিয়েও বেজা সেখানে জেটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। সাবরাংয়ে জেটিটি নির্মাণ হলে দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানান তিনি।
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ব্যবস্থাপনার পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিআইডব্লিউটিএ এই প্রকল্প সফল ও কার্যকরভাবে সমাপ্ত করতে চায়।






