বগুড়া–৬ আসনের উপনির্বাচনে সাতটি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মো. রেজাউল করিম বাদশা ২ হাজার ৯৫০ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত ৮৬টি কেন্দ্রের মধ্যে সাতটি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষ হয়েছে। এতে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম ৪ হাজার ৭০৪ ভোট পেয়েছেন, যিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবিদুর রহমানের ১ হাজার ৭৫৪ ভোটের তুলনায় অনেক এগিয়ে।

আগে আজ সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং টানা বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলে। সারাদিন ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল। দিন শেষে নির্বাচন কমিশন জানায়, ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপনির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। এখন চলছে ভোট গণনা। নির্বাচনে ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।”

এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান (সোহেল) দিনভর উপনির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছেন। দুপুরে মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা বিএনপির পক্ষে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। ফলে “মাগুরার মতো বগুড়া–৬–এ একটি প্রহসনের উপনির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।”

আবিদুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল পাল্টাতে ভোট গ্রহণের আগেই এজেন্টদের কাছ থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া শহরের সিটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পোলিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা আগেভাগেই ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর দিয়ে রেখেছেন। অনিয়মের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবেন বলে জানান।

আবিদুর রহমান বগুড়া শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য। তিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে যান।

ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে আজ বিকেল চারটার দিকে বগুড়া শহরের নওয়াব বাড়ি সড়কে শহর জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আরেকটি সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে কারচুপির নানা অভিযোগ তুললেও ভোট বর্জন না করার ঘোষণা দেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবিদুর রহমান।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই সঙ্গে তিনি ঢাকা–১৭ আসনেও বিজয়ী হন। পরে তিনি বগুড়া–৬ আসন ছেড়ে দেন।

বগুড়া সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসন। উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম (বাদশা) ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান (সোহেল) দাঁড়িপাল্লা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী আল আমিন তালুকদার ফুলকপি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।