সকাল থেকেই সাভারের বিরুলিয়ার গ্লোরিয়াস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে হাজারো শিক্ষার্থীর পদসঞ্চারণে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। চৈত্রের তাপী দুপুরেও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসের সামনে ম্লান হয়ে যায়। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির ছোঁয়ায় সেখানে অনুষ্ঠিত হয় এক অনন্য ঘুড়ি উৎসব।
তরুণদের মধ্যে সুস্থ বিনোদন, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং মাদক থেকে দূরে থাকার উদ্দেশ্যে গত মঙ্গলবার এই উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফার্স্ট কনসার্নস (বিওয়াইএফসি)। আয়োজনের সহযোগী ছিল মুক্তকণ্ঠ বন্ধুসভা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও এশিয়ান টিভি।
মাঠের চারপাশে সাজানো ছিল মাদকবিরোধী স্লোগানযুক্ত প্ল্যাকার্ড। উৎসব শুরুর সঙ্গে একদল শিশু-কিশোর মাঠজুড়ে ঘুড়ি ফোটায় গ্রামবাংলার চেনা ছবি। কেউ কৃষকের ছদ্মবেশে কোদাল-কাস্তে নিয়ে কাজ শুরু করে, কেউ গৃহিণী হয়ে ঢেঁকিতে ধান ভানে। সাপ খেলা ও কানামাছির আসরও হয়। হঠাৎ বর-কনের সাজে একদল শিক্ষার্থীর আগমনে মাঠে বিয়ের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক অংশ শুরু হয়। তার আগে অতিথিরা সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে পায়রা উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন।
প্রথম পর্বে হয় দেশি খেলার প্রতিযোগিতা। মোরগ লড়াই, বস্তাদৌড়, সুই-সুতা গাঁথা ও হাঁড়িভাঙার মতো খেলায় শিক্ষার্থীরা মেতে ওঠে। দুপুরে শুরু হয় মূল আকর্ষণ ঘুড়ি উড়ানো। নীল আকাশে বিভিন্ন রঙের ঘুড়ি ডানা মেলে। বিকেলের রোদে পড়ন্তে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা ও খেলাধুলাই পারে তরুণসমাজকে মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে।’
মুক্তকণ্ঠ বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী ফিরোজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বন্ধুসভা সব সময় মানবিক ও সামাজিক কাজে তরুণদের সম্পৃক্ত করে। গুণী মানুষের আদর্শ অনুসরণ করে তোমাদের মাদকমুক্ত সুন্দর জীবন গড়তে হবে।’
বিওয়াইএফসির ন্যাশনাল ডিরেক্টর পিটার হালদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, সাভার উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালাহ্উদ্দিন খান নঈম, প্রশিক্ষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফেরদৌস বাপ্পি প্রমুখ।
উৎসবে সাভারের ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ছিল সাভার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, রাজাসন সিটি স্কুল, বাড্স ভ্যালি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জামগড়া স্কুল অ্যান্ড হোপসহ স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। বন্ধুসভার পক্ষ থেকে উৎসবে একটি স্টল রাখা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা বন্ধুসভার কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পায়।






