জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার মামলায় রায়ে তাঁর পরিবার সন্তুষ্ট নয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করার পর আবু সাঈদের বাবা আবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম সাংবাদিকদের কাছে এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

আদালত এই মামলার ২৮ জন আসামির মধ্যে পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এছাড়া ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।

রায় জানার পর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর জাফরপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগম ও চাচাতো ভাই রুহুল আমিন। মকবুল হোসেন বলেন, ‘দুইজনকে ফাঁসি দিয়েছে, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিছে। আরও লোকের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। অনেক আসামি তো ছাড়া পায়া গেছে, যারা অপরাধী। কড়াভাবে সাজা দেওয়া উচিত ছিল।’

মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা খুশি নই। আমরা যদি আরও বেশি করে সাজা, বেশি করে অনেক আসামিক ফাঁসি দিলে তেন আমরা খুশি হনু (হতাম)। তা ছাড়া আমরা খুশি নই। আসামি ছাড়া গেছে, আসামির ফাঁসি হয় নাই, সেই জন্য আমরা বেজার (অসন্তুষ্ট)। এখন আমার অন্তর ভালো হয় নাই, আত্মা ঠান্ডা হয় নাই।’

এই মামলার বাদী আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী। তাঁর সঙ্গে ছোট ভাই আবু হোসেন রায় শুনতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষে পীরগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হত্যা মামলার সাক্ষী ও চাচাতো ভাই ওমর ফারুক।

ওমর ফারুক বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এই রায়ের যদি আরও অন্য কিছু করা যায়, আপিল করা যায়, করে যদি সাজা বাড়ানো যায়, তাহলে অন্তত পরিবার থেকে সবাই খুশি থাকবে। আমরা আসলে এই দুইজন আসামিকে মাত্র মৃত্যুদণ্ড দিল, এটা আশা করিনি। আবার অনেক আসামি পলাতক, তাদের ধরারও কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেই।’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু সাঈদের সহপাঠীরাও রায় নিয়ে হতাশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ আমাদের ভাইয়ের হত্যার রায় প্রকাশিত হলো। এই রায়ে আমরা দেখেছি, যারা গুরুদণ্ডে দণ্ডিত, তাদের অনেককে লঘু শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা সেটি পুনরায় আদালতকে বিবেচনার দাবি রাখব। একই সঙ্গে এই রায়ে যাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে, দ্রুতই যেন তাদের শাস্তি কার্যকর করা হয়।’

আরেক সাবেক সমন্বয়ক আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলাম, এটা একটা পুলিশি হত্যাকাণ্ড। আমরা দেখেছি, পুলিশের কর্মকর্তা এসি ইমরান (রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার) সামনে থেকে লিড (নেতৃত্ব) দিয়েছে, ঢিল ছুড়েছে। কিন্তু সেই পুলিশ কর্মকর্তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। তার নাম কিন্তু আসামিদের তালিকাতেও নেই। আবু সাঈদ হত্যা মামলায় এই যে তাদের নাম বাদ পড়ল, কেন নাম বাদ দেওয়া হলো, তার সদুত্তর আমাদের কাছে তারা এখনো দেয় নাই। এ জন্য আমরা দাবি জানাব, তারা যেন এই বিষয়গুলো বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নেয়। এটাই আমাদের চাওয়া।’