ক্রিকেট জগতে অনেক ব্যাটিং জুটি ম্যাচের পর ম্যাচ একসঙ্গে নামে অমর হয়ে আছে। শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারার উদাহরণ নিন। তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একসঙ্গে ৫৫০টি ম্যাচ খেলেছেন, যা বিশ্ব রেকর্ড। এই জুটিতে তারা সবচেয়ে বেশি ১৩৩৬৮ রানও করেছেন।

কিন্তু কিছু জুটির কথা একেবারে উল্টো। তারা বছরের পর বছর একই দলে খেলেছে, একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নিয়েছে ম্যাচের পর ম্যাচ। তবু ব্যাটিংয়ে একসঙ্গে নামেনি—একবারও না! এই তালিকায় শীর্ষে আছেন দুই শ্রীলঙ্কান।

একজন বল হাতে ঘূর্ণির জাদুতে ব্যাটসম্যানদের নাচাতেন, অন্যজন ব্যাট হাতে বোলারদের কচুকাটা করতেন। সনাৎ জয়াসুরিয়া ও মুত্তিয়া মুরালিধরন। শ্রীলঙ্কার সোনালি যুগের এই দুই সারথি মোট ৯০টি টেস্ট একসঙ্গে খেলেছেন। কিন্তু অবাক করার মতো, এই ৯০ টেস্টের একটি ইনিংসেও তারা ব্যাটিং জুটি বেঁধেননি!

শুধু টেস্ট নয়, ওয়ানডেতেও এই দুই লঙ্কানের আড়ি ঘোড়েনি। তারা ৩০৭টি ওয়ানডে একসঙ্গে খেলেছেন, কিন্তু ক্রিকেট-বিশ্ব কখনো তাদের ব্যাটিংয়ে যুগলবন্দী দেখেনি। এর কারণ সহজ—জয়াসুরিয়া ছিলেন ওপেনার, মুরালি নামতেন দশে বা এগারো নম্বরে। তাই জয়াসুরিয়া ফিরলে মুরালির প্যাড পরার সময় আসত না।

এই তালিকায় জয়াসুরিয়া-মুরালির কাছাকাছি কেউ নেই। তবে দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকার হার্শেল গিবস ও মাখায়া এনটিনি। তারা ৬৪টি টেস্ট একসঙ্গে খেললেও ব্যাটিং জুটি হয়নি। ইংল্যান্ডের অ্যালিস্টার কুক ও গ্রায়েম সোয়ানও ৬০ টেস্ট একসঙ্গে খেলেছেন, কিন্তু ২২ গজে কখনো ‘ইয়েস-নো’ বলেননি।

ওয়ানডেতে জয়া-মুরালির পর অস্ট্রেলিয়ার দুই জোড়া। দুটিতেই একজনের নাম অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। গ্লেন ম্যাকগ্রারের সঙ্গে ১৬৭টি, ব্রেট লির সঙ্গে ১৫১টি ওয়ানডে খেলেছেন গিলক্রিস্ট—কিন্তু কারও সঙ্গেই ব্যাট করেননি। গিলক্রিস্ট ওপেন করতেন, ম্যাকগ্রা-লিরা শেষে নামতেন। মাঝে পুরো ব্যাটিং অর্ডার ছিল।

টি-টুয়েন্টিতে রেকর্ড আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং ও জশ লিটলের। তারা ৮১টি টি-টুয়েন্টি একসঙ্গে খেলেছে, কিন্তু ব্যাটিং জুটি নেই। মালয়েশিয়ার ভাই বীরদীপ সিং ও পবনদীপ সিং ৭৯টি টি-টোয়েন্টি একসঙ্গে খেলেছেন, কিন্তু ভাইয়ের সঙ্গে দৌড়ে রান নেয়নি পবনদীপ। একই দলের শারভিন মুনিয়ান্দির সঙ্গেও ৭৯টি ম্যাচ খেলেছে পবনদীপ, জুটি হয়নি।