চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ২–১ গোলে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হারলেও রিয়াল মাদ্রিদের আশা শেষ হয়নি। দ্বিতীয় লেগে আলিয়েঞ্জ অ্যারেনায় তারা ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সম্ভাবনা নিয়ে রয়েছে। রিয়াল কোচ বলেছেন, “মিউনিখে কেউ যদি জিততে পারে, তবে সেটি রিয়ালই।” বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানিও জানেন, আহত রিয়াল ইউরোপিয়ান মঞ্চে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।
চোটের কারণে প্লে–অফ ও শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলতে পারেননি জুড বেলিংহাম। গতকাল রাতে ২৮ মিনিট খেলে কিছু ঝলক দেখিয়েছেন এই মিডফিল্ডার। দ্বিতীয় লেগে তাঁর মূল একাদশে থাকা অনেকটাই নিশ্চিত, যা রিয়ালের মাঝমাঠকে শক্তিশালী করবে এবং বায়ার্নের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। একইভাবে মিলিতাওয়ের ফেরাও রিয়ালের জন্য সুখবর। গতকাল রাতে বদলি নামার আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ৮ ম্যাচে দর্শক ছিলেন তিনি। আলিয়েঞ্জ অ্যারেনায় একাদশে তাঁর উপস্থিতি রিয়ালকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে। ফেরলান্দ মেন্দিরও ফিরছেন, যা রক্ষণকে শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে প্রথম লেগে আলভারো ক্যারেরাসের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে ওঠা মাইকেল ওলিসেকে থামাতে কার্যকর হতে পারেন মেন্দি।
দারুণ শুরুর পর চোট ও ছন্দহীনতায় ভুগছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। গতকাল রাতে ব্যবধান কমানো গোলটি করার পাশাপাশি দারুণ ঝলক দেখিয়েছেন এই ফরাসি তারকা। এমবাপ্পের সেরা ছন্দে ফেরা রিয়ালের জন্য বড় সুখবর। দ্বিতীয় লেগে আরও কার্যকর ও শাণিত এমবাপ্পে বায়ার্নের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। শুধু ব্যক্তিগতভাবেই নয়, ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে জুটিতেও সাবলীল ছিলেন তিনি। ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শট (৬), সর্বোচ্চ অন টার্গেট শট (৪) এবং ক্রসের দিক থেকে দ্বিতীয় (৩) অবস্থানে ছিলেন এমবাপ্পে। আরবেলোয়া বলেছেন, “আমি তাকে দেখেছি ভীষণ নিবেদিত, সব সময় হুমকি হয়ে উঠছিল। এটাই সেই এমবাপ্পে, যাকে আমরা দেখতে চাই।”
বায়ার্নের কাছে হারলেও রিয়াল শেষ পর্যন্ত দলটির রক্ষণের সর্বোচ্চ পরীক্ষা নিয়েছে। এই ম্যাচে ২১ শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রেখেছে রিয়াল। ম্যানুয়াল নয়্যার একাই ৯ গোল সেভ করেছেন। নয়্যারের রুদ্রমূর্তি না থাকলে ফল অন্যরকম হতে পারত। তবে নয়্যার যতটা শক্তি দেখিয়েছেন, দলটির রক্ষণ–দেয়াল ঠিক ততটাই দুর্বল ছিল। দ্বিতীয় লেগে সেই দুর্বলতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে রিয়াল। ‘বুড়ো’ নয়্যারও প্রতি ম্যাচে ‘অতিমানব’ হয়ে উঠবেন না। ফলে রিয়ালের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফলতম দলটি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে কি না, সেটাই দেখার।
বায়ার্ন প্রথম লেগে ২–১ গোলের ব্যবধানে জিতেছে। অর্থাৎ ১ গোল করলেই সমতা ফিরবে (অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা না থাকায় বায়ার্নের কোনো অগ্রাধিকার নেই), এরপর লড়াই উন্মুক্ত। এই পরিস্থিতিতে বায়ার্নের পক্ষে খুব বেশি রক্ষণাত্মক খেলা খেলার সুযোগ নেই। তারা দ্রুত গোল করে নিজেদের সুরক্ষিত করতে চাইবে, যা আক্রমণাত্মক খেলার দিকে নিয়ে যাবে এবং রিয়ালের জন্য সৌভাগ্য আনতে পারে। তবে প্রথম লেগের মতো সুযোগ নষ্ট করলে রিয়ালকে বড় খেসারত দিতে হবে।






