চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা পয়লা বৈশাখের প্রস্তুতিকাজে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আজ বুধবার বিকেল থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা স্থায়ী এই বৈঠকের শেষে তারা এসব কথা জানান। এর আগে একই দিন তারা সব কাজ স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

শিক্ষার্থীরা পয়লা বৈশাখের শোভাযাত্রাসহ সকল ধরনের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ, পরিকল্পনায় তাদের অন্তর্ভুক্ত না করা এবং যথাযথ সম্মান না দেওয়ার অভিযোগেই তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়।

বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলায় উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে বৈঠকটি হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীরা তাদের অসন্তোষের কারণগুলো তুলে ধরেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মৌখিকভাবে আশ্বাস দেয় যে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ত্রুটিগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের সম্মান ও মর্যাদার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে দাবি পূরণের চেষ্টা করা হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকান, পয়লা বৈশাখ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও সহ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) মো. কামাল উদ্দিন, কমিটির সদস্যসচিব ও প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী এবং ছাত্র উপদেষ্টা মো. আনোয়ার হোসেন।

শিল্পী রশিদ চৌধুরী হলের সহসভাপতি ও চারুকলা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী খন্দকার মাসরুর আল ফাহিম বলেন, “বৈঠকে আমরা আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছি। বরাদ্দের বাইরে মূল সমস্যা ছিল সম্মানের জায়গায় এবং দেরিতে সিদ্ধান্ত জানানো নিয়ে। প্রশাসন জানিয়েছে, তারা এসব ত্রুটি সংশোধন করবে এবং আমাদের সহযোগিতা করবে। এ কারণে আমরা কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

আগে আজ দুপুরে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বাজেট নির্ধারণ ও পরিকল্পনা সংক্রান্ত কোনো বৈঠকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সময়মতো বাজেট বরাদ্দ না পাওয়া এবং যথাযথ মর্যাদা না দেওয়ার অভিযোগে তারা প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন।

পয়লা বৈশাখ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “শিক্ষার্থীরা তাঁদের অভিযোগগুলো তুলে ধরেছে। দেরিতে বাজেট বরাদ্দ ও স্বীকৃতির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবার সম্মতিতে এখন পূর্ণোদ্যমে বৈশাখের আয়োজন চলবে। এ ছাড়া চারুকলার শিক্ষার্থীরা আলাদাভাবে অনুষ্ঠান করার কথাও জানিয়েছে। সে বিষয়েও প্রশাসন বিবেচনা করে সহযোগিতা করবে।”