র‍্যাপার বাদশার নতুন গান ‘টাটিরি’ নিয়ে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে কয়েক সপ্তাহ ধরে। গানের কথা ও দৃশ্যায়নে নারীদের আপত্তিকরভাবে দেখানো হওয়ায় তিনি আইনি জটিলতায় পড়েছেন। এর ফলে হরিয়ানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নারী কমিশন তাকে তলব করেছে। মঙ্গলবার কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে বাদশা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন এবং ‘প্রায়শ্চিত্তের পণ’ দিয়েছেন।

মামলার শুনানির জন্য মঙ্গলবার কমিশনের দপ্তরে হাজির হন বাদশা। সেখানে জাতীয় নারী কমিশনের চেয়ারপারসন বিজয়া রাহাতকরও উপস্থিত ছিলেন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন কনটেন্টকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাদশাকে নির্দেশ দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। শুনানির সময় বাদশা ছাড়াও মিউজিক ভিডিওর পরিচালক জোবান সান্ধু, মহাবীর সিং এবং প্রযোজক হিতেন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে নেন বাদশাসহ টিমের অন্যরা।

বাদশা কথা দেন, খুব শিগগিরই নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে গান বাঁধবেন। নারী কমিশনকে তিনি বলেন, “এবার থেকে নারী ও সমাজের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করব। আগামী চার মাসের মধ্যে নারী ক্ষমতায়ন–বিষয়ক একটি ইতিবাচক গান উপহার দেব সকলকে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকব না।”

বাদশার বিতর্কিত গানের মিউজিক ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায়, কাঁধের ব্যাগ নামিয়ে স্কুলছাত্রীরা নাচতে শুরু করেছে। তার সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং নেপথ্যে গানের চটুল কথা। এই যৌন ইঙ্গিতমূলক গান নিয়ে হরিয়ানা নারী কমিশন পুলিশের দ্বারস্থ হয়। অন্যদিকে, মুলায়ম সিং যাদবের পূত্রবধূ অপর্ণা যাদব উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগীকে চিঠি লিখে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে বাদশার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করেছিলেন।

১ মার্চ ‘টাটিরি’ গানটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন বাদশা। প্রথমে অনুরাগীরা উল্লাস প্রকাশ করলেও দিন কয়েক পর নিন্দা শুরু হয়। কারণ, গানের কথা ও দৃশ্যে নারীদের ‘ভোগ্যপণ্য’ হিসেবে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। হরিয়ানা পুলিশ একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে গানের ৮৫৭টি লিংক সরিয়ে নেয়। এরপর নারী কমিশনে হাজিরা দিয়ে বাদশা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে