কুষ্টিয়ার কুমারখালীর তরুণ ওমর ওসমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়াশোনার সম্পূর্ণ খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ বুধবার বিকেলে ঢাকায় শিক্ষামন্ত্রীর কার্যালয়ে ওমরকে ডেকে নিয়ে এ সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রী। তিনি মন্ত্রীর একান্ত সচিবের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে ওমরের যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের আত্মীয়তা প্রকাশ করেন।
সন্ধ্যায় মুক্তকণ্ঠকে তথ্য দেন ওমর ওসমান। তিনি বর্তমানে ঢাকাতেই আছেন। মুঠোফোনে কথা হলে ওমর জানান, মুক্তকণ্ঠে তাঁর নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রীর পিএস তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এরপর আজ বুধবার দুপুরের পর তিনি শিক্ষামন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে একটি আবেদন সোপর্দ করেন।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের মহিষাখোলা গ্রামের গৃহিণী ফাতেমা খাতুন ও মৃত খবির উদ্দিন দম্পতির বড় ছেলে ওমর। তিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হলেও অর্থাভাবে পড়াশোনা থেমে যাওয়ার পর দিনমজুরির কাজ শুরু করেন ওমর।
এ বিষয়ে ১ মার্চ সকালে মুক্তকণ্ঠের অনলাইন সংস্করণে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা জোগাতে শ্রমিকের কাজ করছেন ওমর’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর ফলে ওমরের ভর্তি ও শিক্ষাজীবনের জন্য অনেক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান সাহায্যের হাত বাড়ান। সবশেষে এগিয়ে আসেন শিক্ষামন্ত্রী।
ওমর এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে এক বড় ভাইয়ের কাছে থাকছেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনে আজই প্রথম এসেছি। কার্জন হলের সামনে গিয়ে মন ভরে গেছে। এত সুন্দর জায়গা।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তকণ্ঠ আমার জীবনকে পাল্টে দিল। পড়াশোনা বন্ধ হওয়া থেকে আমাকে তুলে এনেছে। মুক্তকণ্ঠের কাছে আমি চিরঋণী। এই ঋণ ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞ জানিয়ে শোধ হওয়ার নয়, কল্পনার চেয়ে বেশি পেয়েছি।’
শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব অধ্যাপক সোহেল মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী মুক্তকণ্ঠের সংবাদ দেখে ওমর ওসমানের পড়াশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রীর নির্দেশে তিনি ওমরের টিউশন ফিসসহ যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছেন।






