শজনে আর লাজনা—নামের কাছাকাছি মিল থাকলেও দেখতে প্রায় একই রকম। আসলে লাজনা শজনেরই একটি আধুনিক জাত। কিন্তু গাছের গঠন, ফুল, ফলন, আকার-আকৃতি এবং চাষপদ্ধতিতে এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
উদ্ভিদবিদ ও গবেষক জিনিয়া নাসরিন বলেন, ‘শজনেকে যেমন কোথাও শজিনা বা মরিঙ্গা হিসেবে ডাকা হয়, অঞ্চলভেদে লাজনাকেও রাইখঞ্জন বা বহুপল্লভা বলে চেনেন কেউ কেউ। দেখতে প্রায় একই রকম হলেও এদের পার্থক্য আছে।’
গাছের উচ্চতা ও গঠনগত পার্থক্য
শজনে: দেশি শজনেগাছ সোজা ও লম্বা হয়, যা প্রায় ১০-১২ মিটার বা তারও বেশি উঁচু হতে পারে। এর ডালপালা ওপরের দিকে বিস্তৃত হয়।
লাজনা: এটি ঝোপালো বা বামন প্রজাতির গাছ। উচ্চতা সাধারণত ৪-৬ মিটারের মধ্যে থাকে। তাই রক্ষণাবেক্ষণ ও ফল সংগ্রহ অনেক সহজ।
কাণ্ড ও ডালপালার বৈশিষ্ট্য
শজনে: শজনের কাণ্ড শক্ত, ছাল মসৃণ ও পাতলা। বয়সের সঙ্গে মজবুত কাষ্ঠলগাছে পরিণত হয়। ডাল কেটে মাটিতে পোঁতলে নতুন গাছ জন্মে। চাষ সাধারণত ডাল রোপণে হয়।
লাজনা: লাজনার কাণ্ড নরম ও মোটা। দ্রুত বাড়লেও শজনের মতো শক্তপোক্ত হয় না। ডাল থেকে চারা করা যায়, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বীজ থেকে চাষ হয়।
ফুল ও ফলনের সময়
শজনে: মৌসুমি ফলনের গাছ। বছরে একবার (বসন্তের শেষে) ফুল ফোটে এবং একবার ফল দেয়। ফুল সাদাটে বা অফ হোয়াইট। ফুলের সময় সব পাতা ঝরে যায়, ফলও পাতাশূন্য গাছে ঝোলে।
লাজনা: বারোমাসি জাত। বছরে কমপক্ষে দুইবার (কখনো সারা বছর) ফুল-ফল দেয়। ফুল শজনের চেয়ে ছোট, গাঢ় ঘিয়ে রঙের এবং পাপড়িতে লাল দাগ থাকে। ফুল এলেও পাতা ঝরে না, সারা বছর পাতাযুক্ত থাকে। রোপণের ৬-৮ মাসেই ফলন শুরু হয়, যেখানে শজনে ২ বছর লাগে।
ডাঁটার স্বাদ ও আকার
শজনে: ডাঁটা চিকন, পাতলা এবং এক ফুটেরও বেশি লম্বা। আঁশযুক্ত ও সুস্বাদু। পোক্ত হওয়া পর্যন্ত সবুজ সতেজ থাকে, সোজা গড়নের।
লাজনা: ডাঁটা খাটো ও মাংসল। শজনের তুলনায় কম সুস্বাদু, কখনো তেতো লাগে। তবে দুটিরই ঔষধি গুণ অনেক, বসন্তের রোগ থেকে রক্ষা করে। ডাঁটা ধূসর-সবুজ, মোটা, হালকা বাঁকা এবং বাইরের চামড়া শক্ত।






