জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে মঙ্গলবার সিএমএম আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটকের ঘোষণা দেয় আজ ভোরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরবর্তীতে তাঁকে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানায় করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিরীন শারমিন চৌধুরীকে দুই দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করে ডিবি।

বেলা ৩টা ১০ মিনিটের দিকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ৩টা ১৫ মিনিটে শুনানি শুরু হয় এবং শেষ হয় বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে। এরপর তাঁকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতের দ্বিতীয় তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামানোর সময় আদালত প্রাঙ্গণে হট্টগোল শুরু হয়। আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শিরীন আপার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’—স্লোগান দিতে থাকেন। সিএমএম আদালতের সামনে এসে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা পাল্টা স্লোগান দেন: ‘আইনজীবী ফোরামের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আওয়ামী লীগের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’।

দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি স্লোগানে আদালত চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আওয়ামী লীগপন্থীদের সিএমএম আদালতের সামনে থেকে সরিয়ে দেন।

আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী কামরুল ইসলাম বলেন, “জয় বাংলা কি নিষিদ্ধ কোনো স্লোগান? এটি স্বাধীনতার স্লোগান। জয় বাংলা বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল মন্ত্র ছিল। আজ কি এই স্লোগান নিষিদ্ধ হয়ে গেছে?”

ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী কৌঁসুলি হারুন-অর-রশীদ বলেন, আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন। পরে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।