কুমিল্লায় বকেয়া বেতনের দাবিতে নাসা গ্রুপের শ্রমিকরা ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা কয়েকশো শ্রমিকের এই অবরোধের ফলে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এই সব শ্রমিকরা কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) নাসা গ্রুপের ছয়টি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে মহাসড়কের উভয় দিকে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট গড়িয়ে ওঠে। এছাড়া পদুয়ার বাজার এলাকায় এসে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে যুক্ত হওয়া কুমিল্লা–নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরম ও ভোগান্তির কারণে কয়েক হাজার যাত্রী ও চালক কষ্ট পান। পরবর্তীতে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

শ্রমিকদের জানানো মতে, বেতন–ভাতা ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা বকেয়া রেখেই নাসা গ্রুপ কারখানা বন্ধ করেছে। তাই কুমিল্লা ইপিজেডের ছয়টি কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিকের বকেয়া দ্রুত পরিশোধের দাবিতে তারা মহাসড়কে নেমেছেন। আগে ইপিজেডের সামনে নানা সময়ে আন্দোলন করলেও সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পেয়েছেন কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে মহাসড়ক অবরোধের পথ নিতে হয়েছে তাদের।

আন্দোলনের অগ্রভাগে জাহাঙ্গীর কবির নামের এক শ্রমিক জানান, কুমিল্লা ইপিজেডে নাসা গ্রুপের ছয়টি কারখানা রয়েছে। চব্বিশের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এসব প্রতিষ্ঠানে সমস্যা শুরু হয়। প্রায় এক বছর আগে কোনো নোটিশ ছাড়াই চারটি কারখানা বন্ধ করা হয়। বাকি দুটি কারখানা চালু থাকলেও দেড় মাস আগে হঠাৎ বন্ধ হয়েছে। ছয়টি কারখানায় প্রায় ছয় হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। তাঁদের বেশিরভাগেরই এক বছরের মতো বেতন বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ অন্যান্য ফান্ডের টাকাও আটকে আছে।

জাহাঙ্গীর কবির বলেন, সব মিলিয়ে একেকজন শ্রমিক ৫ থেকে ৯ লাখ টাকা করে পাবেন। গত বছরের নভেম্বরে আন্দোলন শুরু হলে শ্রমিকদের ২০ শতাংশ টাকা দিতে বলা হয়। পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু এরপর কাউকে একটি টাকাও দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। কয়েকবার ইপিজেডের সামনে আন্দোলন করেছি। আশ্বাস ছাড়া কোনো লাভ হয়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে আজ মহাসড়কে নেমেছি। কিন্তু পুলিশ আমাদের মারধর করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে। আমরা এখন যাব কোথায়?’

বেলাল হোসেন নামের আরেক শ্রমিক বলেন, ‘নাসা গ্রুপ বিনা নোটিশে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের বেতন আটকে রেখেছে। আমরা দ্রুত বকেয়া বেতন চাই। আমরা অনেক কষ্টে আছি। তাই নিরুপায় হয়ে আন্দোলনে নেমেছি।’

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিক বলেন, শ্রমিকেরা প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়ক বন্ধ করে রাখেন। তাঁদের নানাভাবে বুঝিয়ে মহাসড়কে আন্দোলন বা মহাসড়ক বন্ধ না করে অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরে শ্রমিকেরা মহাসড়ক ছেড়েছেন। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।