সরকারি তথ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন (Bangladesh.gov.bd)’-এর দ্বিতীয় সংস্করণ বা ফ্রেমওয়ার্ক ২.০ চালু করেছে অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)। ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে ধাপে ধাপে সব মন্ত্রণালয়ে এই সংস্করণ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই উদ্যোগে এখন দেশের প্রায় ৫২ হাজার সরকারি দপ্তর যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৫০০টির বেশি ওয়েবসাইট নতুন সংস্করণে হোস্ট করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব অধিদপ্তর, বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি ওয়েবসাইটও এর আওতায় আনা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে এটুআই।
এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহা. আব্দুর রফিক বলেন, জাতীয় তথ্য বাতায়নের নতুন সংস্করণটির কার্যকারিতা পরীক্ষা, দুর্বলতা মূল্যায়ন ও অনুপ্রবেশ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করেছে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার কোয়ালিটি টেস্টিং এবং সার্টিফিকেশন সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটি এ মাধ্যমকে আনুষ্ঠানিক সনদও দিয়েছে। তিনি পোর্টালে যুক্ত সব দপ্তরকে নিজ নিজ দপ্তরিক তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় তথ্য বাতায়নের এ নতুন সংস্করণ দেশের ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নাগরিকের তথ্য প্রাপ্তির অধিকারকে আরও সুদৃঢ় করবে।
এটুআইয়ের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক (উপসচিব) ফজলুল জাহিদ বলেন, আগে কোনো নাগরিককে একটি সেবা সম্পর্কে জানতে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যেতে হতো। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ত। এখন জাতীয় তথ্য বাতায়নের মাধ্যমে ঘরে বসেই সংশ্লিষ্ট অফিসের ঠিকানা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদনপ্রক্রিয়া ও নির্দেশনা জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি টেন্ডার, চাকরির বিজ্ঞপ্তি, সিটিজেন চার্টার ও অর্থ বরাদ্দ-সংক্রান্ত তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্ম শুধু তথ্য প্রদানের একটি মাধ্যম নয়, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নেও কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এতে মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সরকারেরও পৃথক ওয়েবসাইট তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় কমছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে নতুন সংস্করণে যুক্ত হয়েছে ক্লাউড ও মাইক্রোসার্ভিসভিত্তিক কাঠামো। এর ফলে প্ল্যাটফর্মটি আরও দ্রুত, স্থিতিশীল ও সম্প্রসারণযোগ্য হয়েছে। দ্রুত সার্চ, রিয়েল-টাইম হালনাগাদ ও কনটেন্ট ক্যাশিং সুবিধাও এতে রয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থাতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। সিঙ্গেল সাইন-অন, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন, এসএসএল এনক্রিপশনসহ বহু পদক্ষেপ নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।






