টাইট ফিটিংয়ের সাদা শার্ট, চোস্ত সাদা ট্রাউজার আর চকচকে সাদা বুট—নায়িকার চারপাশে ঘুরে বেড়িয়ে স্মিতহাস্যে গান গাইছেন সেই সৌম্যকান্তি নায়ক। না, এ সাধারণ নায়ক নন, তিনি ‘জাম্পিং জ্যাক’ জিতেন্দ্র। বলিউডের মসলা ফিল্মের চিরকালীন তরুণ নায়ক। ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সিনেমায় তাঁকে দেখা গেছে সাদা পোশাকে। কিন্তু কেন শুধু সাদা পোশাক? আজ ৭ এপ্রিল তাঁর জন্মদিন। এই উপলক্ষে জেনে নেওয়া যাক জিতেন্দ্রর ‘সাদা পোশাক’-এর রহস্য।

১৯৪২ সালে পাঞ্জাবের অমৃতসরে রবি কাপুর নামে জন্মগ্রহণ করেন জিতেন্দ্র। তাঁর পরিবার বলিউডে নকল গয়নার ব্যবসায় যুক্ত ছিল। এই সূত্রেই হয় কিংবদন্তি নির্মাতা ভি শান্তারামের সঙ্গে পরিচয়, আর সেখান থেকে শুরু হয় অভিনয়জীবন। জিতেন্দ্র বলেন, “পড়াশোনায় একেবারেই ভালো ছিলাম না। যাকে বলে একেবারে জিরো। অথচ সংসারের অবস্থাও তেমন ভালো নয়। চাচার সঙ্গে বলিউডের সেটে ইমিটেশন জুয়েলারি বিক্রি করতাম।”

বলিউডে প্রথম সুযোগ পেলেও তা নায়কের ভূমিকায় নয়, বরং ‘এক্সট্রা’ হিসেবে। সাল ১৯৫৯। স্মৃতি তুলে বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হন তিনি। জিতেন্দ্র বলেন, “কিছু জুয়েলারি সাপ্লাই দিতে ভি শান্তারামের সেটে গিয়েছিলাম। বেশ কৌতূহল ছিল ফিল্মের ব্যাপারে। কোনো কিছু জানার আগেই শান্তারামের ফিল্মে এক্সট্রার কাজ পেয়ে গিয়েছিলাম।” ভি শান্তারামের পরিচালিত সেই সিনেমা ছিল ‘নবরং’।

তারপর থেকে ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করতে থাকেন জিতেন্দ্র। গত শতাব্দীর ষাটের দশকে ছিল তাঁর সংগ্রামের সময়। এমনকি এক ফিল্মে বডি ডাবল হিসেবেও কাজ করেছেন।

ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক কষ্ট স্বজন করলেও ১৯৬৭ সালে ভাগ্য খুলে যায়। ততক্ষণে তিনটি ফিল্মে অভিনয় করে ফেলেছেন, তবে তেমন দৃষ্টি আকর্ষণ করেননি। সেই বছর বক্স অফিসে আসে ‘ফর্জ’। এতে কেল্লা ফতে করেন জিতেন্দ্র।

ববিতার সঙ্গে জোট বেঁধে ‘ফর্জ’-এ গুপ্তচরের ভূমিকায়। ফিল্মের এক গানে তবে সাড়া ফেলে দেন জিতেন্দ্র। ‘মস্ত বাহারোঁ কা ম্যায় আশিক’ গানটি তাঁর ঠোঁটে সুপারহিট হয়। ফিল্মটিও হিট। জিতেন্দ্রর প্রতি নজর পড়ে। সেই সঙ্গে গানের সময় পরা টাইট সাদা ট্রাউজারও। তবে গানে লাল টি-শার্ট ছিল জাম্পিং জ্যাকের।

‘ফর্জ’ সুপারহিট হওয়ার পর জিতেন্দ্রর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। এরপর তাঁর প্রায় সব ফিল্মেই সাদা পোশাকে নাচ-গানের দৃশ্য থাকে। সেসব গান সুপারহিট। ‘ঢল গায়া দিন, হো গায়ি শাম’, ‘নয়নো মে সপনা’, ‘তাকি ও তাকি’ থেকে শ্রীদেবীর সঙ্গে ‘তোফা তোফা’—একের পর এক গানে পুরো সাদা পোশাকে দেখা গেছে জিতেন্দ্রকে। গানের সঙ্গে তাঁর ড্যান্সিং স্টাইলও হিট। তখনই পান ‘জাম্পিং জ্যাক’ টাইটেল।

কিন্তু বলিউডে তাঁর আসল নাম কখনো ব্যবহার করেননি। তাঁর কথায়, “যতীন খান্না ও আমি— দুজনই রুপালি পর্দায় নাম বদল করেছিলাম। যতীনকে লোকজন চেনে রাজেশ খান্না বলে। আর রবি কাপুর থেকে আমি হয়ে গিয়েছিলাম জিতেন্দ্র! আর একটা কথা জানেন কি? আমরা দুজনই স্কুলের বন্ধু ছিলাম।”

সাদা পোশাকের শুরু কীভাবে হলো, তা জানিয়েছেন জিতেন্দ্র। কিন্তু সব ফিল্মে পরার রহস্য কী? জিতেন্দ্র বলেন, “রংবেরঙের পোশাক পরলে আমাকে খুব বেঁটে দেখাত।” শুধু এটাই নয়, আরও এক কারণ আছে।

জিতেন্দ্র সাদা পোশাক নিয়ে বলেন, ফিটনেসও এক কারণ। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “অনেকেই স্লিমট্রিম দেখানোর জন্য কালো পোশাক পরেন। তবে সাদা পোশাক পরাটা একটা চ্যালেঞ্জ।” সাদা পোশাকের চ্যালেঞ্জ কেন? তাঁর কথায়, “পুরোপুরি সাদা পোশাক পরলে সব সময় মনে রাখতে হয়, নিজেকে ফিট দেখাতে হবে। তাই নিজের ফিটনেস ঠিক রাখার জন্যও চ্যালেঞ্জ হিসেবে সাদা পোশাক পরতাম।” এ চ্যালেঞ্জ তিনি সফলভাবে পালন করেছেন।

বলিউডে শুধু জিতেন্দ্রই পুরো সাদা পোশাকে নাচগান করেননি। মিঠুন চক্রবর্তীকেও দেখা গেছে এমনভাবে। তবে জিতেন্দ্রর মতো দীর্ঘদিন ‘সাদা ইমেজ’ ধরে রাখেননি আর কোনো অভিনেতা!

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আনন্দবাজার পত্রিকা অবলম্বনে