কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বছরের পর বছর ধরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণ করা জমি দখল করে গড়ে উঠেছিল অবৈধ স্থাপনা। এই বাজারজুড়ে সওজের জমিতে নির্মিত হয়েছিল চার শতাধিক দোকানঘর। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মোটা অঙ্কের অগ্রিম নিয়ে এসব দোকান থেকে প্রতি মাসে ভাড়া আদায় করতেন।

২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন বাজারটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করলেও কিছুদিন পরই আগের চেয়ে বেশি মাত্রায় পুনরায় দখল হয়ে যায় সওজের সম্পত্তি। অবশেষে আবারও দখলমুক্ত করা হয়েছে নিমসার বাজারে চার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে।

গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে উচ্ছেদ অভিযান। এতে অংশ নেন সওজ অধিদপ্তর এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। হাইওয়ে পুলিশ, থানা-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থা অভিযানে সহায়তা করে। বাজারটি আবার সম্পূর্ণ দখলমুক্ত হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সওজ অধিদপ্তর কুমিল্লা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য সড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের উদ্দেশ্যে আগে থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে স্থাপনা না সরানোর কারণে সোমবার জেলা ও বুড়িচং উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সওজের কর্মকর্তারা তিনটি এক্সক্যাভেটর নিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে অভিযান চালান। এতে চার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত সওজ কুমিল্লার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, ‘মহাসড়কের এ অংশ যানজটমুক্ত করতে এবং দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বেশ কয়বার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অবৈধ দখলদারেরা সে নোটিশের তোয়াক্কা না করেই তাদের দখলদারত্ব বজায় রাখে। তাই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে নিমসার বাজারের দুই পাশে গড়ে ওঠা চার শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দখলদারেরা যেন পুনরায় এখানে স্থাপনা করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশসহ আমরা তদারক করব। শুধু মহাসড়কের নিমসার বাজারই নয়, অন্যান্য স্থানেও যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেগুলোও উচ্ছেদ করা হবে।’

নিমসার বাজারের অন্তত পাঁচজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ বাজারে প্রতিটি দোকানের বিপরীতে আগাম নেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। মাসিক ভাড়া ছিল ৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা। মহাসড়কের দুই পাশে টিন দিয়ে নির্মিত সব দোকানঘরই দখল করে তৈরি করা হয়েছিল। সওজের সম্পত্তিতে দোকান তুলে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট পুরো বাজার থেকে মাসে ২৫-৩০ লাখ টাকা ভাড়া তুলত।