চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে বায়ার্ন মিউনিখের লড়াইয়ের পূর্বাহ্নে উত্তাপ ছড়িয়েছেন জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস। ম্যাচের আগের দিন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং রিয়াল মাদ্রিদের তীব্র সমালোচনা করেছেন এই বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ফুটবলার।

১৯৯০ সালে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন ম্যাথাউস। একই বছর তিনি ব্যালন ডি’অরও জয় করেন। বায়ার্নের হয়ে দুই মেয়াদে খেলে ছয়টি লিগ শিরোপা অর্জন করেছেন এই কিংবদন্তি। সম্প্রতি এক আলাপে তিনি দাবি করেন, ভিনিসিয়ুস সবসময় প্রতিপক্ষকে উসকানি দেন এবং কান্নাকাটি করেন। রিয়ালের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষকে অসম্মান করার অভিযোগও আনেন তিনি।

স্কাই স্পোর্টসকে ম্যাথাউস বলেন, “ভিনিসিয়ুস নিঃসন্দেহে দারুণ এক খেলোয়াড়, কিন্তু সে সব সময়ই প্রতিপক্ষকে উসকানি দেয়। কেউ তাকে ঠিকঠাক ট্যাকল করলেই সে অভিযোগ করতে শুরু করে, কাঁদে।”

রিয়ালের দিকেও অভিযোগ তুলেছেন ৬৫ বছর বয়সী ম্যাথাউস। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরে রদ্রি সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার পর অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়ে ক্লাবটি অসম্মানজনক আচরণ করেছে। প্রতিপক্ষ দল ও খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত ছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রদ্রিকে বেছে নেওয়া হলো, আর তারা বলল, “এটা অন্যায়। আমাদের কারও জেতা উচিত ছিল। চলুন অনুষ্ঠানটি বর্জন করি।” কিন্তু এটা ঠিক নয়। প্রতিপক্ষ, অন্য দল ও অন্য খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয় আছে।”

এর আগেও ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুসের কড়া সমালোচনা করেছেন জার্মান কিংবদন্তি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় হওয়ার পরপরই ভিনিসিয়ুসের আচরণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ম্যাথাউস এবং তাঁকে স্বদেশি নেইমারের সঙ্গে নেতিবাচকভাবে তুলনা করেন। জার্মান সংবাদপত্র বিল্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমার কাছে সে নতুন নেইমার। সে অসাধারণ প্রতিভাবান, কিন্তু নেইমারের মতোই অস্থির স্বভাবের। দর্শকদের উসকে দেয়, প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ায়, অঙ্গভঙ্গিতে উসকানি দেয়। তার ফিনিশিং, গতি—সবই বিশ্বমানের, কিন্তু আচরণে সে ভুল পথে আছে। নেইমারই তার জন্য ভুল উদাহরণ।”

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আজ রাতে কোয়ার্টার ফাইনাল প্রথম লেগে রিয়ালের মুখোমুখি হবে বায়ার্ন। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।