ধূমকেতু সি/২০২৬ এ১ (ম্যাপস) সূর্যের খুব কাছাকাছি গিয়ে ঘুরে এলেও অক্ষত অবস্থায় নিজ কক্ষপথে ভ্রমণ করছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, গত ১৩ জানুয়ারি চিলির সান পেড্রো ডি আতাকামা থেকে ফ্রান্সের একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী এই ধূমকেতুটি প্রথম শনাক্ত করেন। এটি ক্রুটজ সানগ্রেজার শ্রেণির ধূমকেতু, যা কক্ষপথে সূর্যের অত্যন্ত কাছে যেতে পারে। গত শনিবার এটি সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছায়।
ধূমকেতু ম্যাপস সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে মাত্র এক লাখ মাইল দূরত্বে অতিক্রম করে। এত কাছে গিয়ে প্রচণ্ড তাপে সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়া বা বাষ্পীভূত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। সূর্যের করোনা বা বাইরের বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা প্রায় ২০ লক্ষ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে, যা বরফ ও ধূলিকণার তৈরি এই ভঙ্গুর পিণ্ডের জন্য মারাত্মক হুমকি।
সাধারণত সানগ্রেজার ধূমকেতু সূর্যের খুব কাছে না গেলে শনাক্ত হয় না। কিন্তু ম্যাপসের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটেছে। এটি সূর্য থেকে বেশ দূরে থাকতেই ধরা পড়েছে, যা বিজ্ঞানীদের ধূমকেতুর গঠন ও আচরণ পর্যবেক্ষণের দুর্লভ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
সূর্যের তীব্র তাপ সহ্য করে অক্ষত বেরিয়ে আসায় এখন পৃথিবী থেকেও ধূমকেতুটি দেখা যাবে। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সূর্যাস্তের ঠিক পরপরই পশ্চিম আকাশের দিগন্তের কাছাকাছি এটি দৃশ্যমান হবে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই দেখা সম্ভব। বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে লেজসহ এর বিস্তারিত রূপ স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হবে।
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক






