হলিউডের সাহসী ভূমিকায় পরিচিত অভিনেত্রী শ্যারন স্টোন নব্বইয়ের দশকে ‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’ ছবিতে ঝড় তুলেছিলেন। কিন্তু এখন তিনি সিনেমা ও টিভিতে যৌন দৃশ্যের উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন—এগুলো কি খুব বেশি স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে?

সম্প্রতি সিবিএস মর্নিংস শোতে ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজের তৃতীয় মৌসুম নিয়ে কথা বলেন শ্যারন। সেখানে তিনি বলেন, আজকাল পর্দায় যৌন দৃশ্য অনেক বেশি স্পষ্ট। এতে দর্শকের কল্পনার জায়গা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

শ্যারনের মতে, এখন টেলিভিতে এমন দৃশ্য দেখলে তিনি এড়িয়ে যান। কারণ এগুলো আর আকর্ষণ তৈরি করে না, বরং অস্বস্তি দেয়। তিনি বিশ্বাস করেন, যৌনতার সৌন্দর্য রহস্য, প্রত্যাশা ও কল্পনায় লুকিয়ে থাকে—যা বর্তমান উপস্থাপনায় অনুপস্থিত।

‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’ থেকে আজকের বাস্তবতা
১৯৯২ সালের ‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’ ছবিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন শ্যারন। ছবির একটি সংক্ষিপ্ত নগ্ন দৃশ্য তখন ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। শ্যারন বলেন, সেই দৃশ্য পুরো ফ্রেমে ছিল না—খুব সংক্ষিপ্ত ছিল। কিন্তু এটাই দর্শকের মধ্যে কৌতূহল, রহস্য ও আকর্ষণ জাগিয়েছিল। তাঁর মতে, তৎকালীন দর্শকরা ‘কী দেখা গেল’ প্রশ্নে আগ্রহী ছিলেন এবং অদেখা অংশেই উত্তেজনা তৈরি হতো। এখনকার দৃশ্যে সেই জায়গা হারিয়ে যাচ্ছে।

বিতর্কিত অভিজ্ঞতা
শ্যারন ২০২১ সালের স্মৃতিকথা ‘দ্য বিউটি অব লিভিং টোয়াইস’-এ লিখেছেন, ‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’-এর সেই বিতর্কিত দৃশ্য নিয়ে তাঁকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। শুটিংয়ে বলা হয়েছিল, কিছু দৃশ্যমান হবে না। কিন্তু প্রিভিউতে গিয়ে তিনি পুরো দৃশ্য দেখে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন। এরপর তিনি পরিচালক পল ভারহোভেনের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ারের আলোচিত মুহূর্ত।

শ্যারনের বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি যৌনতার উপস্থাপন অস্বীকার করছেন না, বরং এর ধরন নিয়ে আপত্তি। তাঁর মতে, সবকিছু স্পষ্ট করে দেখানোর দরকার নেই। না-বলা, না-দেখানো অংশেই দর্শকের অনুভূতি ও কল্পনার জায়গা তৈরি হয়। শ্যারন বলেন, ‘আমি চাই, আমার ভেতরের সেই আকাঙ্ক্ষা, রহস্য আর অনুভূতি বেঁচে থাকুক।’

এদিকে ‘বেসিক ইন্সটিংক্ট’-এর সম্ভাব্য রিবুট নিয়ে আলোচনা চলছে। এক প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান ছবির স্বত্ব কিনে নতুনভাবে তৈরির পরিকল্পনা করছে। তবে শ্যারন ইতিমধ্যে কটাক্ষ করে বলেছেন, নতুন সংস্করণ তৈরি সহজ হবে না।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে