সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে চার মাস বয়সী শিশু ফারহানের মৃত্যু হয়েছে। এটি সিলেটে হামের উপসর্গসূচক প্রথম মৃত্যু। আজ সোমবার দুপুর একটার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
অন্যদিকে, রোববার সকাল আটটা থেকে সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে ছয়জনের নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মাহবুবুল আলম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শিশু ফারহান সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ফয়সাল আহমদের ছেলে। গত ৩১ মার্চ সকালে হামের উপসর্গ, নিউমোনিয়া ও হার্ট ফেইলিওর নিয়ে সে হাসপাতালে ভর্তি হয়। উপপরিচালক মাহবুবুল আলম জানান, বর্তমানে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে হামের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই শিশুটির হামের পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং পরে পিআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে আজ দুপুরে তার মৃত্যু ঘটে। সিলেটে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এমএজি ওসমানী মেডিকেলের পিআইসিইউতে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশু চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালের পিআইসিইউর সহকারী রেজিস্ট্রার এ কে এম আবদুল মোতাকাব্বির জানান, গত ৩১ মার্চ শিশু ফারহানকে নিয়ে অভিভাবকেরা হাসপাতালে আসেন। তখন শিশুটির জ্বর ছিল, তবে শরীরে কোনো র্যাশ ছিল না। পরে তাকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসোলেশনের জন্য পাঠানো হয়। সেখানে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত সে চিকিৎসাধীন ছিল। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ওসমানী মেডিকেলের পিআইসিইউতে আনা হয়। তিনি আরও বলেন, পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন পাঁচ শিশুর মধ্যে দুইজনের অবস্থা উন্নত হয়েছে। তবে বাকি তিন শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা সবাই আড়াই থেকে সাত মাস বয়সী।
সিলেট স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল আটটার প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে ছয়জনের নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম শনাক্ত রোগী ৩৭ জন। এর মধ্যে সিলেটে ১০ জন, মৌলভীবাজারে ১০ জন, সুনামগঞ্জে ১১ জন ও হবিগঞ্জে ৬ জন (দুজন রুবেলাসহ)। এছাড়া সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগী ১০১ জন। তাদের মধ্যে ৬২ জন সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।






