বর্তমানে ১০ম শ্রেণির ছাত্র উসাখয় মারমা এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তিনি পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। প্রতিকূলতার মধ্যেও সমাজ ও রাষ্ট্রের মুখ উজ্জ্বল করার অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অশিক্ষিত হতদরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠেছেন উসাখয় মারমা। মা-বাবা ও বড় বোন নিয়ে তাঁদের ছোট কষ্টের সংসার। মা-বাবা দুজনেই কৃষক বা জুম চাষি এবং দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। মা-বাবার কাছ থেকে নানা কষ্টের গল্প শুনে উসাখয় অনুপ্রাণিত হন। তখনই তিনি বড় হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের মুখ উজ্জ্বল করার এবং পাইলট হয়ে স্বপ্ন বাস্তবায়নের সংকল্প নেন।

কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালায় শুরু হয় তাঁর পড়াশোনা। ছোটবেলায় দিনের পর দিন, মাসের পর মাস তাঁর স্বপ্ন ক্ষণে ক্ষণে বদলে যেত। কিন্তু অষ্টম শ্রেণিতে উঠে তাঁর চিন্তাভাবনা, মেধা ও সৃজনশীলতায় পরিবর্তন আসে। ফলে পড়াশোনায় তাঁর আগ্রহ ক্রমশ গভীর হয়। এখন রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কঠোর অনুশাসন, শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান এবং মা-বাবার অনুপ্রেরণায় উসাখয় মারমা স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন।

মেধাবী উসাখয় মারমা দেখিয়ে দিয়েছেন, প্রকৃত শিক্ষা কেবল পরীক্ষার খাতায় ভালো নম্বর পাওয়া নয়। বরং জীবনযুদ্ধে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে টিকে থাকার মানসিকতা অর্জনই আসল শিক্ষা। বাধা-প্রতিকূলতার মাঝে যারা হার মানে না, তারাই একদিন সমাজ ও রাষ্ট্রের জনগণের কাছে প্রদীপ হয়ে ওঠে। তাই উসাখয় মারমার মতো সাহসী মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সাহায্য করা প্রয়োজন।