লক্ষ্মীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদল–সমর্থিত জুলাই ফাইটার্স পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। আজ সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে ছাত্রদলের আয়োজনে জুলাই ফাইটার্সের সংবাদ সম্মেলন হয়। এর আগে গতকাল রোববার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও একই জায়গায় সংবাদ সম্মেলন করে।

সংঘর্ষ, ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখনো কমেনি। রোববারের কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসনের জারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ফাইটার্সের নেতা নাসিরুজ্জামান রাহাত বক্তব্য দেন। তিনি জেলা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আবদুল আজিজ, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। নাসিরুজ্জামান রাহাত বলেন, রোববার ১৪৪ ধারা জারির পরও বৈষম্যবিরোধীরা কর্মসূচি অব্যাহত রাখে। তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। ছাত্রদলও হামলা থেকে বাদ যায়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন লক্ষ্মীপুর শহরে ‘মব’ এর রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা মব সৃষ্টি করে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে।

গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক আরমান হোসাইন, মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিয়ান রায়হান ও সদস্য হাবিবুর রহমান ফাহিমসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। আরমান বলেন, ‘হত্যার উদ্দেশ্যে হাবিবুর রহমান ফাহিমের ওপর হামলা করা হয়েছে। তবু এ ঘটনায় এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে আমরা বিক্ষোভ কর্মসূচি দিই। এখানে এমন কোনো পরিস্থিতি ছিল না যে ১৪৪ ধারা জারি করতে হবে। জুলাই ফাইটার্স নামে ছাত্রদলের ব্যানারে একই স্থানে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। এ সংগঠনের নাম আগে শুনিনি। তবে এর নেতৃত্বে ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম।’

রোববারের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী নেতা সাইফুল ইসলাম মুরাদকে পুলিশ আটক করলেও পড়ে ছেড়ে দেয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। মুরাদ বলেন, ১৪৪ ধারা জারি করার আগে তাদের লোকজন ঘটনাস্থল আসে। হঠাৎ করে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় ছাত্রদল তাদের ওপর হামলা করে।

গত শনিবার রাতে লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকার হাসপাতাল রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান ফাহিম ও জুলাই ফাইটার্সের কর্মী আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার শহরের চকবাজার এলাকায় একই সময় ও স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা দেয় দুই পক্ষ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপজেলা প্রশাসন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। তবে তা ভঙ্গ করে মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়, যা একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে সদর থানার ওসিসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, গতকালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। ওসি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে পুলিশ। কেউ আইন ভঙ্গ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।