ধর্ম অবমাননা ও কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা বাউলশিল্পী আবুল সরকার ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন।
আবুল সরকারের জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার রুলসহ অন্তবর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন।
আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম সজল আজ সোমবার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "মামলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হলেও এর উপাদান নেই।" হাইকোর্ট রুল দিয়ে বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন। অন্য কোনো মামলা না থাকলে আবুল সরকারের মুক্তিতে আইনি কোনো বাধা নেই।
নিম্ন আদালতে জামিন আবেদনে ব্যর্থ হওয়ার পর আবুল সরকার হাইকোর্টে আবেদন করেন। আবেদনটি আদালতের গতকালের কার্যতালিকায় ওঠে এবং শুনানি হয়।
শুনানিতে জামিন আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম সজল। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবি।
এর আগে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় খালা পাগলীর মেলায় গত ৪ নভেম্বর পালাগানের আসরে বাউলশিল্পী আবুল সরকার ধর্ম অবমাননা ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর মন্তব্যের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হয়।
তারপর মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে গত ১৯ নভেম্বর রাতে আবুল সরকারকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল। পরদিন সকালে তাঁকে জেলা ডিবির কার্যালয়ে আনা হয়। সেদিন ঘিওর বন্দর মসজিদের ইমাম মুফতি মো. আবদুল্লাহ বাদী হয়ে আবুল সরকারকে আসামি করে ঘিওর থানায় মামলা করেন। এতে ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের অবমাননা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের উদ্দেশ্যে কটূক্তি ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
ওই মামলায় আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে গত ২০ নভেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় গতকাল তিনি জামিন পান।






