টানা বৃদ্ধির পর আজ দেশের বাজারে সোনার দাম নেমে এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার দাম কমেছে ভরিপ্রতি ২ হাজার ১৫৮ টাকা।

গত সপ্তাহের মঙ্গল ও বুধবার টানা দুদিন সোনার দাম বেড়েছিল ৬ হাজার ৫৩২ টাকা। আজ সেই ধারা ভেঙে দাম কমানো হয়েছে।

বাজুসের নতুন মূল্যপর্যায়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা। ২১ ক্যারেটের ভরি দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১ হাজার ১৪৬ টাকা। সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা হয়েছে।

এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর। এতে ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে। একইভাবে রুপার দামও কমানো হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনা ও রুপার দাম কমায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। তবে মূল কারণ বিশ্ববাজারে দাম হ্রাস। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় ৬ এপ্রিল স্পট মার্কেটে সোনার দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ২৭ ডলার বেড়েছে।

বিশ্ববাজারে এখন সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৬০ ডলার। আগেরবার দেশে দাম বাড়ানোর সময় এটি ছিল ৪ হাজার ৬৭৬ ডলার।

ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমছে। গত ৩০ দিনে আউন্সপ্রতি ৪১৯ ডলার হ্রাস পেয়েছে। ফলে ১২ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত দেশে ভরিতে ৩৫ হাজার ৫৭৫ টাকা কমানো হয়। পরে বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় ২৮ মার্চ থেকে কয়েকবার বৃদ্ধি পায়। আজ কমিয়ে সেই ধারা রুদ্ধ করেছে বাজুস।

বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের অনুসন্ধানে সোনার দাম অনেকদিন ধরে উর্ধ্বমুখী। গত বছর বিশ্ববাজারে এর দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সোনার দাম এখন ঐতিহাসিকভাবে অনেক উঁচু। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর দাম কমেছে। এছাড়া ডলারের শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন। সাধারণত সোনা ও ডলারের দাম একসঙ্গে বাড়ে না। এদের সম্পর্ক বিপরীতমুখী, তবে কখনো ব্যতিক্রম ঘটে। এখন তা নেই।

গত জানুয়ারিতে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ৫ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি ছিল। এর প্রভাবে ২৯ জানুয়ারি দেশের বাজারে সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে—দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।