বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল ১ এপ্রিল ৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করেছে। স্টিভ জবস, স্টিভ ওজনিয়াক ও রোনাল্ড ওয়েনের প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানির তিনটি পণ্য আধুনিক জীবনযাত্রাকে আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছে। আসুন জেনে নিই সেই তিন হিট পণ্য সম্পর্কে।

আইপড

২০০১ সালে অ্যাপল আইপড বাজারে নামায়। এটি শুধু একটি এমপিথ্রি প্লেয়ার ছিল না, বরং ডিজিটাল মিউজিক ডাউনলোডকে মূলধারায় নিয়ে আসার পথিকৃৎ। আইপডের সঙ্গে আইটিউনস লাইব্রেরি গান শোনার পদ্ধতিকে বদলে দিয়েছে।

আইফোন

২০০৭ সালে অ্যাপল আইফোন প্রকাশ করে। তৎকালীন সময়ে স্টিভ জবস এটিকে একটি ফোন, একটি আইপড এবং একটি ইন্টারনেট কমিউনিকেটরের সমন্বয় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। আজ প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীতে প্রায় সাতটি আইফোন বিক্রি হয় এবং এটি অ্যাপলের ইকোসিস্টেমের কেন্দ্রবিন্দু।

অ্যাপল ওয়াচ

২০১৫ সালে অ্যাপল অ্যাপল ওয়াচ বাজারে আনে। টিম কুকের নেতৃত্বাধীন এই স্মার্টওয়াচ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত। এটি শুধু সময় দেখায় না; ইসিজি মনিটরিং এবং ডিটেকশনের মতো ফিচার দিয়ে পরিধানীয় স্বাস্থ্য প্রযুক্তিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে।

যেসব পণ্য সফল হয়নি

সব উদ্যোগই সফল হয় না। অ্যাপলের ইতিহাসেও কিছু ব্যর্থ পণ্য রয়েছে। ১৯৮৩ সালে অ্যাপল লিসা প্রকাশ করে। গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস থাকলেও তৎকালীন ১০ হাজার ডলারের অতিরিক্ত দামের কারণে এটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হয়। তবে এর থেকে শিক্ষা নিয়ে পরে ম্যাকিনটোশ তৈরি করে কোম্পানি। ২০১৫ সালে ল্যাপটপের পুরুত্ব কমাতে অ্যাপল বাটারফ্লাই কিবোর্ড চালু করে; কিন্তু টাইপিংয়ে অস্বস্তি এবং স্থায়িত্বের অভাবে এটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। অবশেষে ২০১৯ সালে অ্যাপল এটি বাতিল করে।

২০২৪ সালে অ্যাপল ভিশন প্রো বাজারে আনে। ৩ হাজার ৫০০ ডলার দাম এবং অপর্যাপ্ত কনটেন্টের কারণে এই মিক্সড রিয়েলিটি হেডসেট প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি।

সমালোচকদের তথ্যমতে, স্টিভ জবসের আমলে অ্যাপল ছিল দূরদর্শী উদ্ভাবনের প্রতীক। অন্যদিকে, বর্তমান সিইও টিম কুকের নেতৃত্বে এটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে এবং বিদ্যমান প্রযুক্তির উন্নয়নে বেশি জোর দিচ্ছে। তাই অনেক অ্যাপলপ্রেমী এখনো সেই উদ্ভাবনী অ্যাপলকে মনে রাখেন, যা স্টিভ জবসের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল।

সূত্র: বিবিসি