সন্ধ্যা নামার অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একটি ল্যাবরেটরিতে আলো জ্বলছিল। কেউ ল্যাপটপে প্রেজেন্টেশন চেক করছিলেন, কেউ তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে নিচ্ছিলেন। সবার মনে একই প্রশ্ন—শেষমেশ সফল হবে তো?

এই উদ্বেগ নিয়ে বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের একদল শিক্ষার্থী ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড বায়োসিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং (সিআইজিআর)’ আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ সাত ক্যাটাগরির মধ্যে চারটিতে পুরস্কার এসেছে—দুটি স্বর্ণ এবং দুটি ব্রোঞ্জ।

প্রতিযোগিতা ছিল ল্যান্ড অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট, স্ট্রাকচারস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট, প্ল্যান্ট প্রোডাকশন, এনার্জি ইন অ্যাগ্রিকালচার, সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট, বায়োপ্রসেসেস এবং ইনফরমেশন টেকনোলজি—এই সাত ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভারত, ঘানা, নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিলেন। তারা পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষিশক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে উদ্ভাবন উপস্থাপন করেছেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিল বাকৃবির চার দল।

এনার্জি ইন অ্যাগ্রিকালচার ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক জিতেছে মো. আবু হুরায়রা আল রিজন, আমিনা আরিফ ও শোয়াইব আহমেদের দল। সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক পেয়েছেন তানভীর হোসেন, খৈরম অনন্তা ও নুসরাত জাহান। একই ক্যাটাগরিতে মো. রাহাত মিয়া ও খন্দকার জুনায়েদ আহমেদের দল ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেছে। স্ট্রাকচারস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ক্যাটাগরিতে সাবিদুর রহমান ও নুসরাত জিহানের দল ব্রোঞ্জ জিতেছে।

এনার্জি ইন অ্যাগ্রিকালচার ক্যাটাগরির স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য মো. আবু হুরায়রা আল রিজন বলেন, ‘এই সাফল্য আমাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফল। বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে সবাই ছিল বাকৃবির, সেটাও অন্য রকম গর্বের বিষয়।’

সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট ক্যাটাগরির স্বর্ণজয়ী নুসরাত জাহান বলেন, ‘এই অর্জনের পেছনে আমাদের দলের সবার অবদান আছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম তুলে ধরতে পেরেছি, এটিই সবচেয়ে বড় পাওয়া।’

শিক্ষার্থীদের পুরো যাত্রায় সঙ্গী ছিলেন মেন্টররা। কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক মো. আনিসুর রহমানের তত্ত্বাবধানে তিনটি দল এবং মো. রুস্তম আলীর তত্ত্বাবধানে একটি দল কাজ করেছে। বিজয়ী দলগুলোর সদস্যরা বলেছেন, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনাই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।

স্বর্ণজয়ীরা পাবেন ৫০০ মার্কিন ডলার, ব্রোঞ্জজয়ীরা ২০০ ডলার এবং বিশেষ সম্মাননা। তবে শিক্ষার্থীরা পুরস্কারের অঙ্কের চেয়ে বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উচ্চারণের সুযোগকেই বড় মনে করছেন। ২০২৬ সালের জুনে ইতালির তুরিনে ‘সিআইজিআর ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস’-এ এই পুরস্কারগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হবে।