১০ মাসের শিশু মো. রাফার পুরো মুখমণ্ডলে লালচে ফুসকুড়ি। নোয়াখালীর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে সে অনবরত কাঁদছে। পাশে মা রোমানা আফরোজসহ স্বজনেরা নানাভাবে কান্না থামানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু কিছুতেই সে থামছে না।
আজ রোববার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। শুধু রাফা নয়, আইসোলেশন ওয়ার্ডজুড়ে তারমতো কান্নার শব্দ ছড়িয়ে আছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত এখানে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৯ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টা) ১২ জন ভর্তি হয়েছে।
আজ দুপুরে আইসোলেশন ওয়ার্ড পরিদর্শনে দেখা যায়, সেখানে ২৮ শিশু চিকিৎসাধীন। এক রোগীর শরীর থেকে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে না পারার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ডে দর্শনার্থীদের যাতায়াতও সীমিত করা হয়েছে।
শিশু রাফার মা রোমানা আফরোজ বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে আমার ছেলের প্রচণ্ড জ্বর হয়। এরপর ডায়রিয়া শুরু হয়। পরে শরীরজুড়ে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। প্রথমে বাড়ির পাশের দোকান থেকে ওষুধ খাওয়ানো হলেও তাতে কাজ হয়নি। পরে শনিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনো জ্বর ও ডায়রিয়া কমেনি।’
সুবর্ণচর উপজেলার জাহাজমারা এলাকার বাসিন্দা ফয়জুন্নেসা বেগম বলেন, তাঁর ১০ বছর বয়সী নাতি এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অসুস্থ। হামের সঙ্গে জ্বর ও ডায়রিয়া রয়েছে। হাম কিছুটা কমলেও অন্য সমস্যা এখনো আছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল দেওয়া হয়। যাদের ডায়রিয়া বা নিউমোনিয়ার সমস্যা রয়েছে, তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জেলায় এখন পর্যন্ত ৯৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ছয়জনের ফলাফল পজিটিভ এসেছে। বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে আরও সাতজন শিশু ভর্তি রয়েছে।’






