বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আজ রোববার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি হার কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ দাঁড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ৯ শতাংশ ছাড় করে যাওয়া মূল্যস্ফীতি টানা চার মাসের ঊর্ধ্বমুখী ধারা ভেঙে এই প্রথমবারের মতো নিম্নমুখী হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুসারে, এতে জনসাধারণের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানে পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং আগের মাসগুলোর তুলনায় ওই নির্দিষ্ট সময়ে মূল্যবৃদ্ধির হার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে তাই বোঝায়।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে খাদ্যমূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে পোশাকসহ বিভিন্ন খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের কেনাবেচা বৃদ্ধির কারণে এই খাতে মূল্যস্ফীতির হার উচ্চতর হয়েছে।

মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার কম থাকায় সাধারণ মানুষের ক্রেয়ক্ষমতা কমে গেছে। গত মার্চে জাতীয় মজুরি হার ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ রেখে গণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ, পণ্যের দাম যতটা বেড়েছে, তার চেয়ে কম হারে মজুরি বাড়ায় বাজার থেকে দৈনন্দিন পণ্য কিনতে ভোগান্তি বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে প্রকৃত আয় কমে যায় এবং মানুষকে ধারদেনা করে সংসার চালানো বা খাবার, কাপড়চোপড় ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কাটছাঁট করতে হয়।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "মার্চ মাসের যে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, এর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। বাজারে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। মূল্যস্ফীতি গণনা পদ্ধতির পর্যালোচনা দরকার বলে তিনি মনে করেন।"