ভোলার প্রত্যন্ত মদনপুর ইউনিয়ন মেঘনা নদীর ওপারে অবস্থিত। এখানে এখনো বিদ্যুৎ বা আধুনিক নাগরিক সুবিধা পুরোপুরি পৌঁছায়নি। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মো: হাসান নামের এক তরুণ স্বপ্ন ও সংগ্রামের অসাধারণ গল্প রচনা করছেন। সাধারণ পরিবারের সন্তান হাসান। তাঁর বাবা আব্দুল মান্নান গ্রাম চৌকিদার। ছোট পরিবারে এক ভাই ও এক বোন নিয়ে কঠিন জীবনের মধ্যে তাঁর বেড়ে ওঠা। তবু দারিদ্র্য বা অবকাঠামোগত অভাব তাঁর স্বপ্নকে আটকাতে পারেনি।
হাসানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট পরিচালিত মদনপুর আলোর পাঠশালায়। প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য এই বিদ্যালয় আশার প্রতীক। ২০২০ সালে এখান থেকে জেএসসি উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে এসএসসি পরীক্ষায় ৪.০৭ জিপিএ অর্জন করে মেধা ও পরিশ্রমের প্রমাণ দেন। বিদ্যালয়ের অবদান তাঁর সাফল্যে অস্বীকার্য। মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানই নয়, নৈতিকতা, আত্মবিশ্বাস ও সমাজসেবার প্রেরণাও যোগায়।
পড়াশোনার সঙ্গে জীবনের বাস্তবতা হাসানকে স্বনির্ভরতা শিখিয়েছে। নিজের চেষ্টায় তিনি একটি বড় মুদি দোকান গড়ে তুলেছেন, যা এখন পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। দিনের বড় অংশ দোকানে কাটান তিনি, বাকি সময় পড়াশোনায়। এই কঠোর পরিশ্রম ও সময় ব্যবস্থাপনা তাঁকে সবাই থেকে আলাদা করে তুলেছে।
আজ হাসান শুধু শিক্ষার্থী নন, উদীয়মান উদ্যোক্তা ও সমাজের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্থানীয়রা তাঁকে অনুকরণীয় মনে করেন। পিছিয়ে পড়া মদনপুরে তাঁর সাফল্য নতুন প্রজন্মের জন্য শক্তিশালী অনুপ্রেরণা। ভবিষ্যতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে সমাজের জন্য কাজ করাই তাঁর লক্ষ্য।






