হলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের জন্মদিন ছিল ৪ এপ্রিল। অসাধারণ অভিনয়ক্ষমতা, বিতর্কিত ব্যক্তিগত জীবন, মাদকাসক্তি থেকে পুনরুদ্ধার এবং সুপারহিরো হিসেবে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি—তাঁর জীবন যেন একটি চলচ্চিত্রের গল্প। ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন তাঁকে জীবনের অনেক শিক্ষা দিয়েছে। গতকাল তাঁর জন্মদিনে তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক জানুন।

বাবার ছবিতেই অভিনয় শুরু

রবার্ট ডাউনি জুনিয়র ১৯৬৫ সালে নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি সিনেমার জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাবা রবার্ট ডাউনি সিনিয়র ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা। ফলে ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ জাগে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবার ছবিতে অভিনয় করে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়।

ক্যারিয়ারে দ্রুত উন্নতি

অভিনয়জীবন ১৯৭০ সালে শুরু হলেও ১৯৮০-এর দশক থেকে তিনি হলিউডে নিয়মিত কাজ করতে শুরু করেন। অল্পকালেই তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তরুণ প্রতিভা হিসেবে পরিচিত হন। বিশেষ করে ‘চ্যাপলিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সেরা অভিনেতা হিসেবে অস্কার মনোনয়ন লাভ করেন। এরপর তাঁর ক্যারিয়ার একের পর এক উত্থান লাভ করে।

ক্যারিয়ারে অন্ধকার ছায়া

তখন তাঁর ক্যারিয়ার তুমুল আলোচিত। ‘শর্ট কাটস’, ‘হার্ট অ্যান্ড সোলস’সহ একাধিক ছবি তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু নব্বই দশকে মাদক গ্রহণের কারণে তিনি গণমাধ্যমে শিরোনামে আসেন। এই আসক্তি তাঁর ক্যারিয়ার প্রায় ধ্বংস করে দেয়। ফলে নব্বই দশকে একাধিকবার গ্রেপ্তার এবং পুনর্বাসনকেন্দ্রে যেতে হয়। প্রযোজকেরা তাঁকে ছবিতে নিতে ভয় পেতেন।

পুনরুদ্ধারের অসাধারণ গল্প

জনপ্রিয়তার চূড়ায় থেকে পতনের পর তিনি ভেবেছিলেন ক্যারিয়ার হয়তো শেষ। কিন্তু স্ত্রী সুসান ডাউনির সমর্থন এবং নিজের দৃঢ়সংকল্পে তিনি মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পান। অভিনয়ে মনোনিবেশ করেন। ‘আইরন ম্যান’ ছবিতে স্টার্ক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন। এটি তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

এখন হলিউডের শীর্ষ নাম

বর্তমানে হলিউডে তিনি অন্যতম আলোচিত নাম। তিনবার অস্কার মনোনয়ন পেয়েছেন। ‘অ্যাভেঞ্জারস: এন্ডগেম’ তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে। সর্বশেষ ‘ওপেনহাইমার’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য অস্কার জিতেছেন। তাঁর ক্রেডিটে ‘অ্যাভেঞ্জার’, ‘শার্লক হোমস’–এর মতো হিট সিকুয়েল রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিশ্বাস করেন, যে কেউ চাইলে জীবন বদলে ফেলতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “তুমি নিচে পড়ে গেছ বলেই সেখানে পড়ে থাকতে হবে—এমন কোনো কথা নেই।” ১৯৬৫ সালে জন্মগ্রহণকারী এই অভিনেতা এখন ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তির মালিক।