জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, নবনির্বাচিত সংসদে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কষ্ট নিয়ে কথা হচ্ছে না। তিনি বলেন, বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘কথা হচ্ছে জুলাই, গণভোট ইত্যাদি নিয়ে। আমরা আগেই বলেছি, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নেই, গণভোটের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। মৌলিক বিষয় পরিবর্তনের জন্য গণভোট হয়। এই পার্লামেন্টের মাধ্যমে যা সংস্কার করতে চান, তা করা যাবে।’ সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে সময় নষ্ট হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তেলের দাম নিয়ে কথা বলা উচিত।’

আজ রোববার সকালে জাতীয় পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। রাজধানীর গুলশানের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বর্তমান সরকারকে সময় দিতে চাই। আমরা এই সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে চাই।’ লাঙ্গল প্রতীকের প্রসঙ্গ তুলে জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, ‘কিছুদিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে লড়ব। আশা করি, এই প্রতীক আমরা পাব। দুই অথবা তিন সপ্তাহের মধ্যে এই প্রতীক আমরা পাব।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির এক পক্ষের মহাসচিব ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের মুখপাত্র এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি চিরতরে অবসানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ সত্যিকার অর্থেই একটি প্রতিহিংসা ও জিঘাংসামুক্ত নতুন বাংলাদেশ পাবে।’

রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, তারা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। তবে এমন কোনো সমালোচনা করা রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নয়, যার ফলে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হলে দেশে কী পরিস্থিতি হতে পারে, তা অন্তর্বর্তী সরকার দেখিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো–চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, কো–চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, জনতা পার্টি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও এনডিএফের সমন্বয়কারী গোলাম সরোয়ার মিলন, মুসলিম লীগ সভাপতি মহসিন রশিদ, জাতীয় ইসলামিক জোট চেয়ারম্যান আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক, জাতীয় পার্টির কো–চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান টেপা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম মিলন, জাহাঙ্গীর আহমেদ, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানসহ আরও অনেকে।