বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বয়স এখনো ছয় মাস পূর্ণ হয়নি। তবু এর মধ্যে ২৫ পরিচালকের মধ্যে সাতজন পদত্যাগ করেছেন। গতকালের বোর্ড সভার পরই চারজন পদ ছেড়েছেন। এভাবে পর পর পরিচালকদের পদত্যাগে বিসিবির বর্তমান বোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনে সবাই চলে গেলেও তিনি শেষ পর্যন্ত দায়িত্বে থেকে পরিস্থিতি সামলাতে চান। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস ধরে বোর্ডকে শান্তিতে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। বাইরের একটি ‘এক্সটার্নাল ফোর্স’ সব সময় তাঁদের কাজে বিঘ্ন ঘটিয়ে আসছে।

গত অক্টোবরে নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব নেওয়া এই পরিচালনা পর্ষদ থেকে গতকাল শনিবার পদত্যাগের কথা জানান ফাইয়াজুর রহমান, শানিয়ান তানিম, মেহরাব আলম ও মনজুর আলম। এর আগে ইশতিয়াক সাদেক, আমজাদ হোসেন ও ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পর পর পরিচালকদের পদত্যাগের ঘটনার মধ্যে গতকাল বোর্ড সভা শেষে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভিকে সাক্ষাৎকার দেন আমিনুল ইসলাম। পরিচালক কমতে কমতে বোর্ড একসময় অলআউট হয়ে যেতে পারে—এমন প্রশ্নে হেসে বলেন তিনি, “একটা চেয়ার নিয়ে বসে থাকব। কী করব?”

তারপর যোগ করেন, “আই উইল বি দ্য লাস্ট পারসন টু গো (যাওয়ার জন্য আমিই থাকব শেষ ব্যক্তি)।” আমিনুল অবশ্য তাঁর নেতৃত্বাধীন বোর্ডের পরিচালকেরা কেন পদত্যাগ করেছেন, জানেন না বলে দাবি করেছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর বোর্ড বারবার বাইরের শক্তির চাপে পড়েছে বলে অভিযোগ করে আমিনুল বলেন, “আমরা ছয় মাসের মতো বোর্ড চালাচ্ছি। একটা দিনের জন্যও কিন্তু আমরা শান্তিতে কাজ করতে পারিনি। আমাদেরকে একটা এক্সটার্নাল ফোর্স সব সময় ডিস্টার্ব করছে এবং করে চলেছে।”

উদাহরণস্বরূপ আট বছর আগের নারী ক্রিকেটের বিষয়, আগের বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে এই বোর্ডকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যে নির্বাচনের মাধ্যমে আমিনুলের বোর্ড দায়িত্ব নিয়েছে, সেখানে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগে গত ১১ মার্চ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর সরকারের দিক থেকে বর্তমান বোর্ড নিয়ে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত হলে কী করবেন—এ প্রসঙ্গে আমিনুল বলেন, “আমি সবকিছু ছেড়ে দিয়ে এখানে এসেছি আমার দেশকে সাহায্য করতে। এখন যদি কোনো কারণে (দায়িত্ব) না থাকে, নো প্রবলেম। আমার আরেকটা পথ দেখে নিতে হবে। তবে আমি দেশের জন্য কাজ করতে চাই।”