বাগেরহাটে জলকপাট (স্লুইসগেট) ও অবৈধ পাইপের মাধ্যমে লবণাক্ত পানি ঢোকানোর কারণে শত শত একর জমির ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদী-খাল ও ফসলের মাঠে লবণপানি প্রবেশ বন্ধ করার দাবিতে কৃষকরা বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন। সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের ভুক্তভোগী কৃষকদের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচির পর তারা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, লবণপানির প্রভাবে ডেমা ইউনিয়নের অন্তত আট হাজার একর জমির ধান নষ্ট হওয়ার ভয় দেখা দিয়েছে। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডেমা ইউনিয়নের হেদায়েতপুর গ্রামের কৃষক এস এম আরাফাত হোসেন। মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিল্লাল হোসেন, স্থানীয় কৃষক ফজলে রাব্বি, নাজুম হাসান, গোলাম মওলা, রবিউল ইসলাম, আলি রাজ, মো. সোলাইমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে কৃষকরা অভিযোগ তুললেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ডেমা ইউনিয়নে ১৭টি জলকপাট ও ১৬টি অবৈধ পাইপ রয়েছে। এখন মাঠের ধান ফলনের (পাকা হওয়ার) অপেক্ষায় রয়েছে। তবে মাছ চাষের জন্য অবৈধভাবে জলকপাট দিয়ে লবণপানি তোলা হচ্ছে, যা ধান নষ্টের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। ফলে এলাকার কৃষকরা পথে বসে যাবেন। এলাকার কোনো সাধারণ মানুষ বা কৃষক লবণপানি ঢোকানোর পক্ষে নয়। তবু মাছ চাষকারীরা নদী-খাল অবৈধভাবে দখল করে লবণপানি ঢোকাচ্ছেন। বারবার প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তারা এখানে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

কৃষকদের ধান রক্ষায় অবিলম্বে লবণপানি প্রবেশ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, এরপরও যদি প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ইউনিয়নবাসী ডিসি ও ইউএনও কার্যালয়ে অবস্থান নিতে বাধ্য হবেন।

ডাকসু সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমার বাড়ি বাগেরহাটে। এখানকার বেশির ভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিছু প্রভাবশালী মানুষ চিংড়ি চাষের জন্য লবণপানি প্রবেশ করাচ্ছেন। এতে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে ইউনিয়নের অন্তত আট হাজার একর জমির ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের বাঁচাতে লবণপানির প্রবেশ ঠেকাতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

স্থানীয় কৃষক আরাফাত হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে ৫২ শতকে বিঘা। এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। যাঁরা নগদ টাকায় জমি রেখে (লিজ) চাষ করেন, তাঁদের ব্যয় আরও বেশি। মাঠে প্রায় গাছে ধানের শিষ চলে এসেছে, এ মাসের মধ্যেই বেশির ভাগ ধান পেকে যাবে। এখন যদি লবণপানি ঢোকানো হয়, তাহলে আমাদের মতো কৃষকদের বাঁচার পথ থাকবে না।’

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৭১ একর জমিতে বোরো চাষ করেছেন কৃষকেরা।

জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দখল হয়ে যাওয়া নদী-খাল উদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে। স্লুইসগেট দিয়ে লবণপানি ঢোকানো রোধে ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। এখানে দুটি পক্ষ হয়ে গেছে। কেউ মাছচাষি, কেউ ধানচাষি। একপক্ষ লবণপানি ঢোকাতে চায়। ধানচাষিদের এতে ক্ষতি হয়। গত দেড় মাস ধরে তাঁরা এটা নিয়ে কাজ করছেন। আশা করছেন, দ্রুত সমাধান হবে।