ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবল এখন মৌসুমের শেষ ধাপে। আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ করে ক্লাবগুলো মাঠে ফিরছে, চ্যাম্পিয়নস লিগের বিরতি বাদ দিয়ে মে মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বিরতিমুক্ত লড়াই চলবে। মৌসুমের ক্লান্তি পেছনে ফেলে এখন শুধু শিরোপা জয়ের লক্ষ্য। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ—ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা, বুন্দেসলিগা, সিরি আ এবং লিগ আঁ—এ কোন লিগে কোন দল কোথায় দাঁড়িয়ে, এক নজরে দেখা যাক।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের হাতে শিরোপা দেখছেন অনেকে। ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে মিকেল আরতেতার দল দ্বিতীয় স্থানে। আর্সেনাল সিটির চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলেছে। সিটি কম খেলা ম্যাচটিতে ৩ পয়েন্ট জিতলেও ব্যবধান ৬ থাকবে।
এখান থেকে আর্সেনালের শিরোপা হাতছাড়া হতে পারে দুটি বিষয় ঘটলে। শেষ ৭ ম্যাচে গানারদের পয়েন্ট হারাতে হবে, একই সময়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে প্রায় সব ম্যাচ জিততে হবে। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে কারাবাও কাপের ফাইনালে সিটির কাছে হেরেছিল আর্সেনাল। চলতি মাসে প্রিমিয়ার লিগেও দুই দলের মুখোমুখি হবে। ১৯ এপ্রিলের সেই ম্যাচ সিটির ইতিহাদ স্টেডিয়ামে। এই বাধা কাটিয়ে অন্য ম্যাচে পা না হড়কালে আর্সেনালের শিরোপা নিশ্চিত।
এই মুহূর্তে অপ্টার সুপারকম্পিউটার আর্সেনালের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতার সম্ভাবনা ৯৭% বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে।
২৯ রাউন্ড শেষে লা লিগায় শীর্ষে বার্সেলোনা, দ্বিতীয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। ব্যবধান ৪ পয়েন্ট। শেষ ৯ রাউন্ডে ওলটপালটের সম্ভাবনা যথেষ্ট।
অপ্টার সুপারকম্পিউটার বার্সেলোনাকেই এগিয়ে রাখছে। হান্সি ফ্লিকের দলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৭৩.২০, রিয়ালের ২৬.৮০। তবে শেষ ৯ ম্যাচের সূচি বার্সার জন্য চ্যালেঞ্জিং।
আন্তর্জাতিক বিরতির পর বার্সেলোনার প্রথম ম্যাচ আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে, যারা পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয়। আতলেতিকোর মাঠে সর্বশেষ ৪-০ গোলে হেরেছিল বার্সা। পরের ম্যাচ ঘরে এস্পানিওলের সঙ্গে ‘কাতালান ডার্বি’। এপ্রিল শেষে ও মে শুরুতে হেতাফে ও ওসাসুনার মাঠে যাবে বার্সেলোনা, যেখানে কয়েক সপ্তাহ আগে রিয়াল হেরেছে।
শিরোপা লড়াইয়ে বড় প্রভাব ফেলবে ১০ মে এল ক্লাসিকো। স্বাগতিক বার্সা, মাদ্রিদের লেগে জয়ে উজ্জীবিত। ৩৮ রাউন্ডে পয়েন্ট সমান হলে মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল প্রথম মানদণ্ড, যেখানে বার্সেলোনা এগিয়ে।
বুন্দেসলিগায় ৩৪ রাউন্ডের ২৭ রাউন্ড শেষ। ৯ পয়েন্ট এগিয়ে বায়ার্ন মিউনিখ শিরোপার কাছাকাছি। ডর্টমুন্ড সামনের ম্যাচে পয়েন্ট হারালে ৩০তম রাউন্ডেই শিরোপা নিশ্চিত ভিনসেন্ট কোম্পানির দলের। ডর্টমুন্ড টানা জিতলে বায়ার্নকে ৩২তম রাউন্ড পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ডর্টমুন্ডের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা প্রায় নেই। বুন্দেসলিগায় এই পর্যায়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে কোনো দল শিরোপা জিতেনি।
সিরি আয়ে কিছুদিন আগে ইন্টার প্রতিবেশী মিলানের চেয়ে ১০ পয়েন্ট, নাপোলির চেয়ে ১৪ পয়েন্ট এগিয়ে ছিল। কিন্তু শেষ দিকে হোঁচট খেয়েছে। ডার্বিতে হারের পর দুটি ড্রয়ে এখন এসি মিলান ও নাপোলি শিরোপা স্বপ্ন দেখছে।
ইন্টারের ভরসা লিগ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। ৮ ম্যাচ বাকিতে এসি মিলানের চেয়ে ৬ পয়েন্ট, টানা চার জয়ের নাপোলির চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে। দুই দলের সঙ্গে আর ম্যাচ নেই। বড় বাধা ১২ এপ্রিল কোমো ও রোমার বিপক্ষে, যারা চ্যাম্পিয়নস লিগ টিকিটের লড়াইয়ে।
ইন্টারের জন্য চ্যালেঞ্জ ইতালি জাতীয় দলের বিশ্বকাপ ব্যর্থতা। বসনিয়ার কাছে প্লে-অফ ফাইনালে টাইব্রেকার মিস করেছিলেন পিও এস্পোসিতো, লাল কার্ড পেয়েছিলেন আলেহান্দ্রো বাস্তোনি।
লিগ আঁয়ে শীর্ষ দুই দলের ব্যবধান সবচেয়ে কম। দ্বিতীয় লাঁস এক ম্যাচ বেশি খেলে ২৭ ম্যাচে ৫৯ পয়েন্ট। লাঁস লড়াই চালিয়ে গেলে শিরোপা মীমাংসা ১৪ মে, পিএসজি তাদের মাঠে খেলবে।






