রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতার পায়ে কাঁপছিল মঞ্চে দাঁড়িয়ে। হাতে ট্রফি, চারপাশে ঝলমলে আলো, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর করতালির ধ্বনি। তবু বিশ্বাস হচ্ছিল না—এটাই কি সত্যি? ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’-এ বিজয়ীর মুকুট তার মাথায় বসল শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো অনুষ্ঠানে। দীর্ঘ সাত বছর পর দেশে এই প্রতিযোগিতার নতুন বিজয়ী জুটেছে তার জন্য। এই মুহূর্ত তার কাছে শুধু জয় নয়, বহুদিনের স্বপ্নপূরণের গল্প।

ট্রফি হাতে নেওয়ার পরপরই আবেগাপ্লুত বর্ণিতা সাংবাদিকদের বলেন, “আমার পা কাঁপছিল, দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। দর্শকের ভালোবাসায় এই জায়গায় এসেছি। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।”

প্রথম হওয়ার অপূর্ণতা থেকে পূর্ণতা
জীবনে কখনো প্রথম হতে না পারার আক্ষেপ ছিল তার মনে জমে। আবেগময় কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি সব সময় পড়ালেখায় ভালো ফল করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু জীবনে কখনো প্রথম হতে পারিনি। সব সময় দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছি। সব সময়ই মনে হতো, কোথাও না কোথাও প্রথম হতে চাই। আজ সত্যিই আমি এই মঞ্চে প্রথম হতে পেরেছি।”

জয়ের আনন্দের সঙ্গে দায়িত্ব
জয়ের উল্লাসের মধ্যেও তার চোখে দায়িত্বের ছাপ স্পষ্ট। এই ট্রফি তার কাছে শুধু পুরস্কার নয়, অনেক বড় দায়িত্ব। তিনি বলেন, “এই ট্রফিটা শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটা অনেক বড় দায়িত্ব। সবার ভালোবাসা আর সমর্থনেই আমি এখানে এসেছি। সেই ভালোবাসার মর্যাদা রাখতে চাই, সামনে আরও দূর যেতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”

এই জয় তার জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে। ট্রফির সঙ্গে বিলাসবহুল গাড়ি, শিহাব শাহীনের ওয়েব কনটেন্টে কাজের সুযোগ এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে রায়হান রাফীর পরিচালনায় একটি সিনেমায় অভিনয়ের স্থান। এ ব্যাপারে বর্ণিতা বলেন, “রাফী স্যার শুরু থেকেই আমাদের মেন্টর ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তাঁর সিনেমা বড় পর্দায় দেখেছি দর্শক হিসেবে। এখন তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অবিশ্বাস্য। আমি সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব।”

প্রতিযোগিতার পথচলা
২০০৫ সালে শুরু হয় ‘লাক্স সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতা। কয়েক বছর নিয়মিত চলার পর এটি বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে আয়োজিত হয়। সাত বছর বিরতির পর গত বছর শুরু হয় এর দশম আসর।

লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্যে থেকে ১১ হাজার প্রতিযোগীকে বাছাই করা হয়। সেখান থেকে সেরা ১০ জনকে নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেল আইয়ে সম্প্রচার শুরু হয়। এবারের মেন্টর ছিলেন জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফী। চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন পাঁচজন—আমিনা ইসলাম, বিদুষী বর্ণিতা, নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা, তিস্তা পাল ও নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল। প্রথম রানারআপ হয়েছেন নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল এবং দ্বিতীয় রানারআপ চট্টগ্রামের আমিনা।

শুক্রবারের অনুষ্ঠানে ইউনিলিভারের মার্কেটিং ডিরেক্টর ও বিজনেস ইউনিট হেড নাবিলা জাবীন খান বলেন, “লাক্স সুপারস্টারের গল্পগুলো সব সময়ই অনুপ্রেরণার। এটি একজন সাধারণ নারীর অসাধারণ হয়ে ওঠার যাত্রা।” সেই যাত্রার নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন রাজশাহীর বর্ণিতা।

চ্যানেল আই অবলম্বনে