জামালপুর শহরের বেলটিয়া এলাকার পলিশা গ্রামে সন্তানের প্রেমকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বিরোধের জেরে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলাচলের পথে দেয়াল তুলে বন্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ২০টি পরিবার টানা ১১ দিন ধরে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। পথ বন্ধ হওয়ায় শতাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, একাধিক সালিস বৈঠকেও বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো গত সোমবার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতারের কাছে আবদুল মজিদ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হায়দার উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে তাঁর কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন।

পালিশা গ্রামের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে একই এলাকার এক ছেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ছাত্রীটি হঠাৎ নিখোঁজ হলে ১৪ ডিসেম্বর তার মা বাদী হয়ে সদর থানায় অপহরণের মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছেলেটি ও তার মা–বাবাকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ ছাত্রী ও ছেলেটিকে উদ্ধার করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালতে জবানবন্দি শেষে ছাত্রীকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

মামলার জেরে ছেলেটির মা ও বাবা প্রায় তিন মাস কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান। স্থানীয় লোকজন বলছেন, ঘটনায় ক্ষোভ থেকে ২৪ মার্চ কবির হোসেন তার বাড়ির সামনে একমাত্র চলাচলের পথে ইটের দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেন। এতে ছাত্রীসহ গ্রামের অন্তত ২০টি পরিবারের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাপ-দাদার আমল থেকে তারা ওই পথ ব্যবহার করে আসছেন। রাস্তা বন্ধ হওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাজার, হাসপাতাল বা মসজিদে যাতায়াতও কষ্টসাধ্য হয়েছে। আগেও অন্তত দুবার পথ বন্ধ করা হয়েছিল; স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সেগুলো মীমাংসিত হয়। এলাকাবাসী দাবি করছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে সামান্য বিরোধ হলেই তারা চলাচলের পথ বন্ধ করে দেন।

ছেলের মা বলেন, ‘ছেলে ও মেয়ে প্রেম করে পালিয়ে গিয়েছিল। ছেলের অপরাধে আমাকে ও আমার স্বামীকে মেয়ের মা–বাবা জেল খাটিয়েছে। এই কারণে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ মানুষ। আমি লাঠি (ক্রাচ) দিয়ে চলাচল করি। তারপরও আমাদের দুজনকে তিন মাস জেল খাটিয়েছে। আমরা মেয়ের বাবা-মাকে এদিক দিয়ে যেতে দেব না। তবে অন্য পরিবারগুলোর জন্য চলাচলের রাস্তা দেব।’

দেয়াল তোলা পরিবার দাবি করছে, তারা নিজেদের জায়গায় দেয়াল তুলেছেন। তবে এলাকাবাসী বলছেন, জায়গাটি খাস খতিয়ানভুক্ত।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হায়দার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পরিবারকে আগামী রোববার আসার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। উভয় পরিবারের কাছ থেকে পুরো ঘটনা শুনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।