ঠাকুরগাঁওর সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতীয় বিএসএফ-এর হাতে আটক হন আজিজুর রহমান (৫০)। তারপর শুরু হয় নির্যাতনের ধাক্কা। বেধড়ক মারধরে গুরুতর আহত হয়ে ভারতের হাসপাতাল ও কারাগারে কাটান তিনি দিনগুলো। ঘটনার প্রায় সাড়ে ১০ মাস পর শুক্রবার ভারত থেকে ফিরলেন আজিজুর। তবে জীবিত নয়, লাশ হয়ে।

শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বিজিবি ও বিএসএফ-এর উপস্থিতিতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া মডেল থানা ও বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আজিজুর রহমানের লাশ হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ। এ সময় তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম, বিজিবির বাংলাবান্ধা বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইউনুসসহ ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা ও মারা যাওয়া আজিজুরের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। পরে আজিজুর রহমানের জামাতা দুলাল হোসেন ও ভাতিজা সোহেল রানার কাছে তাঁর লাশ হস্তান্তর করেছে তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মারা যাওয়া আজিজুর রহমান ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সাহানাবাদ এলাকার বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ১৪ মে সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটার সময় ভারতের ১৮৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন আমবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাঁকে ধরে নিয়ে যান। আটকের পর আজিজুরকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। পরে তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর শিলিগুড়ি জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর চলতি বছরের গত ২২ মার্চ আজিজুর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন আনুমানিক বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি মারা যান। এরপর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের মধ্যে প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়। শুক্রবার বিকেলে আজিজুর রহমানের লাশ হাতে পাওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ভাতিজা সোহেল রানা।

রানীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আজিজুরকে আটকের সময় তিনি ধস্তাধস্তি করলে বিএসএফ তাঁকে নির্যাতন করেছিল। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে ভারতের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। কারাগারেই অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তিনি মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ-এর হাতে আটক হয়েছিলেন আজিজুর রহমান। তিনি ভারতের শিলিগুড়ি কারাগারে ছিলেন। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে ২২ মার্চ তিনি শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শুক্রবার বিকেলে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা, ভারতীয় বিএসএফ এবং পুলিশ আজিজুর রহমানের লাশ হস্তান্তর করেছে। এ সময় বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। লাশ বুঝে পাওয়ার পরপরই আজিজুরের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।