ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ব্রাহ্মণকান্দা গ্রামের কাছে আড়িয়াল খাঁ নদের পাশে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেন থেকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে পুলিশ এক অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করে। সেদিন সন্ধ্যায় তাঁর ছেলে লাশের পরিচয় দেয়। পরে ১ এপ্রিল পুলিশ নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেই স্বামী আদালতে স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করেন। আজ শুক্রবার ভাঙ্গা থানার পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

নিহতা হাসিনা পারভিন (৪৭) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি সেখানকার একটি আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। আসামি আনিসুর রহমান (৪০) তাঁর দ্বিতীয় স্বামী। তিনি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দা এবং ঢাকার রায়েরবাগে বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, হাসিনার প্রথম স্বামী আজিজুর রহমান ২০০৫ সালে মারা যান। এরপর তিনি তিন ছেলেকে নিয়ে সেই এলাকায় বাস করেন। পরবর্তীতে তিনি আনিসুর রহমানকে বিয়ে করেন। সম্প্রতি একটি জমি বিক্রির বিষয় নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ দেখা দেয়। সেই জমির মালিক ছিলেন হাসিনার চাচা, যিনি জমিটি হাসিনাকে দান করেন। পরে হাসিনা সেই জমি স্বামী আনিসুরকে দান করেন। আনিসুর জমিটি বিক্রি করে দেন। এরপর থেকে তাঁদের সম্পর্ক খারাপ হয়। জমিটি আবার নিজের নামে নেওয়ার জন্য হাসিনা স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। এতে স্বামী ক্ষুব্ধ হন।

আসামির স্বীকারোক্তি অনুসারে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি হাসিনাকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। তারা একসঙ্গে মোটরসাইকেলে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে পার হয়ে ভাঙ্গার পুলিয়া এলাকায় পৌঁছান। কথা-কাটাকাটির মধ্যে আনিসুর হাসিনার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন এবং এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনের পাশে আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে ফেলে দেন। পরে মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন।

মামলার তদন্তকারী ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন জানান, নিহতার ছেলে সাইফুর রহমান (২৫) মামলা করার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আসামি ফরিদপুর আদালতে ১৬৪ ধারায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে আসামিকে বৃহস্পতিবার রাতে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।