কুড়িগ্রামের মুক্তকণ্ঠ চর আলো পাঠশালার সাবেক শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম মেধাবী ছাত্র ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি চিত্রাঙ্কনে তার অসাধারণ দক্ষতা ছিল। ২০১৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় তিনি জিপিএ ৩.৫৩ এবং ২০১৯ সালে জেএসসি পরীক্ষায় ৩.৭১ অর্জন করে সফল হন। কিন্তু পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি।
পরিবারের জন্য আয়ের ব্যবস্থা করতে ২০২০ সালে ঢাকায় চলে যান রফিকুল এবং স্টার থাই অ্যালুমিনিয়াম কোম্পানিতে হেলপার হিসেবে চাকরি নেন। তখন তার বেতন ছিল ৭ হাজার ৫০০ টাকা। পরবর্তীতে সততা, আদর্শ ও যোগ্যতার কারণে তাকে ডেলিভারি ম্যান পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এখন তার মাসিক বেতন ১৫ হাজার টাকা।
আলো পাঠশালার প্রধান শিক্ষক রফিকুলের বাবা মো. আমির জালালের কাছে রফিকুলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের অনেক বড় স্বপ্ন ছিল কিন্তু অর্থের অভাবে আমি আমার ছেলের সেই স্বপ্ন পূর্ণ করতে পারিনি। বাবা হিসাবে আমি আমার ছেলের কাছে অপরাধী। এখন তার আয়ের টাকা দিয়ে চলে আমার সংসার।’
রফিকুল ইসলাম জানান, ‘পরিবারে অভাব থাকায় জেএসসির পর আর পড়াশোনা করতে পারিনি আমি। সংসারে সাহায্য করার জন্য কাজে যেতে হয়েছে। তবে আমি পড়াশোনা না করতে পারলেও আমার ছোট ভাইবোনদের পড়াশোনা করাব আমি। তাদের শিক্ষিত করার জন্য যা-যা করার দরকার আমি তা করব। আমার জন্য দোয়া করবেন।’






