আলোকচিত্রী শহিদুল আলম সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমরা ভিন্ন জিনিস আশা করি আপনাদের থেকে। আপনারা ভিন্ন কথা বলেছেন বলে জনগণ আপনাদের ভোট দিয়েছে; কিন্তু জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না। আপনারা যেটা বলে এসেছেন, সেটাকে আমরা বিশ্বাস করি বলেই আপনাদের আমরা সুযোগটা দিয়েছি। সেই জায়গায় আপনারা থাকতে চেষ্টা করেন।’

ক্ষমতাসীনদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘যদি সেটা আপনারা না পারেন, এর আগের এত ক্ষমতাশালী সরকারকে যখন হটানো গেছে, এই সরকারকেও হটানো সম্ভব।’

চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে (ডিএফপি) চলচ্চিত্র নির্মাতা গোলাপ শাহের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল আলম এসব কথা বলেন। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

হামলার ঘটনা নিয়ে শহিদুল আলম বলেন, ‘এটা একটা ছোটখাটো ঘটনা নয়। শিল্পীদের ওপরে সরকারি অফিসের ভেতরে আক্রমণ হয়েছে। এটার তাৎপর্য আমাদের বুঝতে হবে। এটা যদি হতে পারে, তাহলে দেশটা কোথায় থেকে কীভাবে চালাচ্ছে সেই প্রশ্নগুলো করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা হঠাৎ করে হয়নি; সংঘবদ্ধভাবে হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে হয়েছে। কিছু মানুষকে ডাকা হয়েছে আক্রমণ করার জন্য। সরকারি ডিজির অফিসের ভেতরে ঢুকে তারা এই আক্রমণটা করেছে। এটা কত বড় কিছুর ইঙ্গিত করে, সেটা বুঝতে হবে।’

শহিদুল আলম প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্লোজ সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ কীভাবে গায়েব হয়ে যায়? সিসিটিভি ফুটেজ হারিয়ে গেলে তার জন্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। কিন্তু আমরা দেখিনি সেই ধরনের কোনো ব্যবস্থা হয়েছে। কতটা ক্ষমতা থাকলে একটি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ উধাও করে দেওয়া যায়—এই প্রশ্ন আমাদের করতে হবে।’

নিজের ওপর হামলার ঘটনা বর্ণনা করে নির্মাতা গোলাপ শাহ বলেন, তাঁরা তাঁদের নির্মিত তথ্যচিত্রের বকেয়া বিল নেওয়ার জন্য চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে গিয়েছিলেন। সেখানে বকেয়া বিল দেওয়া নিয়ে আলোচনা চলাকালে এক কর্মকর্তা তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং পরে বহিরাগত ছাত্রদলের লোকজন এনে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হামলার শিকার আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী মোশফিকুর রহমান জোহান। তিনি বলেন, গত ৩০ মার্চ তাঁরা তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে বকেয়া বিল নিতে যান। সেখানে এক কর্মকর্তা বিল পরিশোধে বাধা দেন এবং পরে বহিরাগত লোকজন এনে নির্মাতাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন থেকে ছয় দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত ও আইনের আওতায় আনা, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ, সংস্কৃতিকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি অর্থায়নে চলচ্চিত্র নির্মাণে আর্থিক অনিয়ম বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মানবাধিকার কর্মী রেজাউর রহমান লেনিন, চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋতু সাত্তার, চলচ্চিত্র নির্মাতা জাহিন ফারুক আমিন প্রমুখ।