মাদারীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৫টি পদের মধ্যে আওয়ামীপন্থীরা ১৩টিতে জয়লাভ করেছেন। সভাপতি এবং আপ্যায়ন ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে জামায়াতে ইসলামীর অনুসারী ছাড়া বাকি সব পদেই তারা বিজয়ী হয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফরহাদুল ইসলাম ফলাফল ঘোষণা করেন।

সভাপতি পদে জামায়াতে ইসলামীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত এমদাদুল হক খান জয়ী হয়েছেন। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগপন্থী প্যানেলের সুজিৎ চ্যাটার্জিকে ৩৮ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন। এমদাদুল হক খান আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের একটি অংশ ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের সমর্থন পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহ্বায়ক অলিউর রহমানকে ৩৬ ভোটে পরাজিত করে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন সদর উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক মাহাবুব হোসেন (শাকিল)।

অন্যান্য পদে সিনিয়র সহসভাপতি জালালুর রহমান, সহসভাপতি মাহবুব হাসান ওরফে সরোজ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ১ জাফর ইমাম ওরফে সুজন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ২ মুনির হাসান ওরফে মিঠু, কোষাধ্যক্ষ মহিদুল ইসলাম, আপ্যায়ন ও সংস্কৃতি সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান, মহরার সম্পাদক আজিজুল হক মুকুল নির্বাচিত হয়েছেন। লাইব্রেরি সম্পাদক পদে গোলাম মোস্তফা দেওয়ান (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) জয়লাভ করেন।

কার্যকরী সদস্যপদে নির্বাচিত হয়েছেন নাফিজ ইকবাল ওরফে রবিন, হেলাল উদ্দিন, আতিকুর রহমান, সত্যেন কুমার ঢালী ও ডালিয়া আক্তার।

আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৫টি পদের মধ্যে ১৩টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপিপন্থী একজন প্রার্থীও জয় পাননি। সভাপতিসহ দুটি পদ ছাড়া জয়ী সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আপ্যায়ন ও সংস্কৃতি সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান জামায়াতের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। কোষাধ্যক্ষ মহিদুল ইসলাম বিএনপির থেকে বহিষ্কৃত হলেও এবার আওয়ামী সমর্থকদের প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

সভাপতি এমদাদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন এর আগেও নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন। এই নিয়ে তারা পরপর দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হলেন।

সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত ১৩ জন বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কোনো প্রার্থী জয় পাননি। সভাপতি পরে যিনি বিজয়ী হয়েছেন, তিনি স্বতন্ত্র। তিনি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে একসময়ে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে রাজনীতির সঙ্গে নেই।’

নবনির্বাচিত সভাপতি এমদাদুল হক খান বলেন, ‘আমি স্বতন্ত্র থেকে একক নির্বাচন করেছি। কোনো রাজনৈতিক প্যানেল ছিল না। আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। একসময়ে ছাত্ররাজনীতি করলেও এখন কোনো রাজনীতির সঙ্গে নেই। আমি আইনজীবীদের স্বার্থে কথা বলি, তাঁদের কল্যাণে কাজ করি। এর বাইরে কিছু নেই।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফরহাদুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ একটানা চলে বেলা ২টা পর্যন্ত। এবার ২৫৪ জন ভোটার তালিকায় ছিলেন, যার মধ্যে ২৫০ জন ভোট দেন। গতকাল দিনব্যাপী ব্যাপক নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ হয়।