চলাচল শুরুর এক বছর পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনে শেষ পর্যন্ত এসি বগি যুক্ত হচ্ছে। এই দুই ট্রেনে এসি আসন (সিট) এবং কেবিন থাকবে। বর্তমানে এই রুটে দুই জোড়া আন্তরগত ট্রেন চললেও সেগুলোতে এসব সুবিধা নেই। ফলে যাত্রীদের সাধারণ বগিতেই যাতায়াত করতে হচ্ছে।

যাত্রীদের চাহিদা ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রবাল ও সৈকত এক্সপ্রেসে এসি বগি যুক্তের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। তবে এসব বগি নিয়ে ট্রেনগুলো কবে চলাচল শুরু করবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বর্তমানে চলাচলরত আন্তনগর ট্রেনের মানোন্নয়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে এসি বগি যুক্ত করা হবে। এখন এসি বগি না থাকায় এই রুটে ট্রেনে করে যাতায়াতে যাত্রীদের আগ্রহ কম।”

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে চালু হয় রেলওয়ের নতুন রুট কক্সবাজার। শুরুতে ঢাকা থেকে বিরতিহীন আন্তরগত ট্রেন দেওয়া হয়। প্রথম দিকে চট্টগ্রাম থেকে কোনো ট্রেন ছিল না। পরে এক জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছিল। একপর্যায়ে ইঞ্জিন ও কোচ–সংকটে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে দুই জোড়া নিয়মিত ট্রেন চালু করা হয়। এ ছাড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিরতিহীন পর্যটক ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস চলাচল করে।

রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন ১৬টি কোচ নিয়ে চলাচল করে। পুরোনো বগিগুলো পাল্টানো হবে। নতুন করে ১টি এসি কেবিন, ১টি নন-এসি কেবিন, ৩টি এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা), ৮টি শোভন চেয়ার, ১টি পাওয়ার কার এবং ২টি গার্ড ব্রেক কোচ থাকবে। প্রতিটি ট্রেনে প্রায় সাড়ে সাত শ আসন রয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেছেন, যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় লাইন চালুর প্রায় এক বছর পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে নিয়মিত ট্রেন দেওয়া হয়েছে। তবে আন্তরগত ট্রেন হলেও সেখানে তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিল না। ট্রেনের বগিগুলোও অনেক পুরোনো ছিল। শীতাতপনিয়নিয়ন্ত্রিত বগি ও কেবিন না থাকায় অনেক যাত্রী ট্রেনে যাতায়াতে আগ্রহ হারিয়েছেন। জনপ্রিয় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন কোচ না দেওয়া হতাশাজনক।

এই রুটের যাত্রীরা বলছেন, এসি কোচ যুক্ত হলে ট্রেনে ভ্রমণ বাড়বে। বিশেষ করে পর্যটকদের জন্য এটি বড় স্বস্তি আনবে। তবে সেবার মান, সময়ানুবর্তিতা ও টিকিট ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বর্তমানে দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করে। মূলত একটি রেক (ইঞ্জিন ও একাধিক বগি মিলে একটি রেক) দিয়ে এই দুই জোড়া ট্রেন চালানো হয়। অর্থাৎ একটি ট্রেন প্রতিদিন চারবার আসা-যাওয়া করে। বর্তমানে ব্যবহৃত বগি বা কোচগুলো অনেক পুরোনো। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মহানগর এক্সপ্রেসে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা নতুন কোচ সংযোজন করা হয়েছে। এই ট্রেনের পুরোনো বগিগুলো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যুক্ত করা হবে। এই বগিগুলো ২০২০ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা হয়েছিল।

বর্তমানে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন ছাড়া প্রতিদিন ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় সৈকত এক্সপ্রেস। কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর সকাল ১০টায় প্রবাল এক্সপ্রেস নামে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বিকেলে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর বেলা ৩টা ১০ মিনিটে প্রবাল এক্সপ্রেস হিসেবে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। কক্সবাজার থেকে রাত ৮টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয় সৈকত এক্সপ্রেস। সোমবার এই আন্তরগত ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ।

রেলওয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওপিএস) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বলেন, “চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের আন্তনগর ট্রেনে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। মহানগর এক্সপ্রেসের অবমুক্ত করা বগিগুলো এখানে যুক্ত করা হবে। যদিও কবে নাগাদ এসব বগি নিয়ে ট্রেন চলাচল করবে, তা চূড়ান্ত হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “রেলওয়ের জনপ্রিয় রুটের অন্যতম কক্সবাজার রুট। চট্টগ্রাম থেকে এই রুটে প্রচুর যাত্রী চাহিদা রয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষের উন্নত মানের ট্রেনের দাবি ছিল। এসি বগি যুক্ত করা হলে যাত্রীরা স্বস্তিতে আরামে যাতায়াত করতে পারবেন।”