চট্টগ্রাম নগর পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ বড় সাজ্জাদের অনুসারী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ও বোরহান উদ্দিনকে খুঁজছে। গত বছরের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এক্সেস রোডে সংঘটিত জোড়া খুনের ঘটনার অন্যতম আসামি এই দুজন। পুলিশ তাদের ধরতে না পারলেও তারা উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন। চার দিন আগে বাকলিয়া থানায় আদেশের কপি পৌঁছানোর পর পুলিশ জামিনের বিষয়টি জানতে পারে। এ ঘটনাকে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারির ব্যর্থতা হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিবেচনা করছেন।

বড় সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের এই দুই সহযোগীর নাম নির্মাণাধীন ভবনের মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি, চাঁদা না পাওয়ায় গুলি এবং প্রকাশ্যে খুনের নানা ঘটনায় জড়িয়ে এসেছে। চট্টগ্রাম নগর পুলিশ তাদের হন্যে হয়ে খুঁজছে। তবে তারা উচ্চ আদালতে গিয়ে জামিন অর্জন করেছেন। চট্টগ্রামের আলোচিত জোড়া খুনের মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি তারা ছয় সপ্তাহের জন্য জামিন পান। আদেশটি গত ২৯ মার্চ বাকলিয়া থানায় পৌঁছায়।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁঁইয়া বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “পুলিশ তাঁদের খুঁজছে। এরই মধ্যে তাঁরা জামিন পেয়েছেন জোড়া খুনের মামলায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষকে জানানো হচ্ছে।”

গত বছরের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। সেই রাতে সন্ত্রাসীরা বাকলিয়া এক্সেস রোডে এলোপাথাড়ি গুলি করে প্রাইভেট কারে থাকা বখতিয়ার হোসেন (৩০) ও মো. আবদুল্লাহকে (৩২) হত্যা করে। নিহত দুজন বড় সাজ্জাদের দল ছেড়ে আসা ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলার অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গাড়িতে সরোয়ারও ছিলেন, তবে তিনি বেঁচে যান।

‘সন্ত্রাসী’ আকবর আলী ওরফে ঢাকাইয়া আকবর, সরোয়ার হোসেনসহ নগর ও জেলার রাউজান, হাটহাজারীতে খুন ও চাঁদাবাজিতেও সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে দুজনের নাম রয়েছে। গত বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় আকবরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। সরোয়ারকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় গত বছরের ৫ নভেম্বর। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনে (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন।

পুলিশ জানায়, পোশাক কারখানা থেকে ঝুট কেনাবেচার নিয়ন্ত্রণ এবং বড় সাজ্জাদের আধিপত্য ধরে রাখার উদ্দেশ্যে ওই রাতে সরোয়ার হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় তাঁর দুই অনুসারীর মৃত্যু হয়েছে। সে রাতে হামলা থেকে প্রাণে বাঁচলেও পরে ৫ নভেম্বর সরোয়ারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। জোড়া খুনের ঘটনার পরদিন ৩১ মার্চ থানায় মামলা হয়। এ মামলায় মোবারক ও বোরহান এজাহারভুক্ত আসামি।

‘৫০০০০ পুলিশ থাকলেও ঘরে গিয়ে মেরে ফেলব’।

শুধু জোড়া খুন নয়, ‘সন্ত্রাসী’ আকবর আলী ওরফে ঢাকাইয়া আকবর সরোয়ার হোসেনসহ নগর ও জেলার রাউজান, হাটহাজারীতে খুন-চাঁদাবাজিতেও সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে দুজনের নাম রয়েছে। গত বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় আকবরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। সরোয়ারকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় গত বছরের ৫ নভেম্বর। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনে (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এরশাদ উল্লাহসহ আরও পাঁচজন।

কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বাসায় গুলি করে সন্ত্রাসীরা। মোস্তাফিজুর রহমানের ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ স্মার্ট গ্রুপের কাছে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না পেয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি প্রথম দফায় মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় গুলি করেন। গুলিতে বাসার জানালার কাচ ভেঙে যায়। পরে দুই মাসের মাথায় আবার গুলি করে।

সাজ্জাদের সহযোগী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের মো. মুসার ছেলে। জোড়া খুন ও ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ সাত মামলার আসামি তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর কিছু ছবিতে ১৫-২০টি অস্ত্র বহনের প্রমাণ রয়েছে। জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করে এনেছিলেন মোবারক। রায়হানের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও খুনের আট মামলা।

পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারির ব্যর্থতার কারণে আলোচিত দুই সন্ত্রাসীকে ধরতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “পুলিশের দায়িত্ব হলো সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা। যেহেতু তাঁরা জামিন নিয়েছেন, রাষ্ট্রপক্ষ এখন ব্যবস্থা নিতে পারেন।”

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌশলী (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”