বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশুদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। কিন্তু এখানে শিশুদের জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণকেন্দ্র (পিআইসিইউ) নেই। হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য ৩০ শয্যার আইসোলেশন কক্ষ চালু করা হয়েছে, তবে ভেন্টিলেটরের সুবিধা নেই। ফলে শ্বাসকষ্টে ভুগছে এমন শিশুদের পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শন করা যায়, তখন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশুদের আলাদা আইসোলেশন কক্ষে চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ শ্বাসকষ্টে কাতর। ভেন্টিলেটরের অভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সাহায্যে শিশুদের অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার ভোরে এই ওয়ার্ডে জেলার শেরপুরের ১০ মাসের হুমায়রা নামে এক শিশু মারা যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিশুর স্বজন বলেন, হাম বা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় আইসিইউ দরকার। কিন্তু এখানে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত আইসিইউ নেই। আইসোলেশন কক্ষে ভেন্টিলেটরের বদলে অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে চিকিৎসা চলছে। আশপাশের হাসপাতালে শিশুদের আইসিইউ না থাকায় অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন চিকিৎসকেরা। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ও উপপরিচালক মো. মনজুর-এ-মুর্শেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ৩০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হাম আক্রান্ত শিশুদের শ্বাসকষ্টের জটিলতা বাড়লে আইসিইউ লাগতে পারে। কিন্তু এ হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক আইসিইউ নেই। পেডিয়াট্রিক আইসিইউ চালু করতে জনবল ও প্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কোনো শিশুর আইসিইউ লাগলে তাকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল বুধবার বেলা তিনটা থেকে আজ বেলা তিনটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে দুই শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালে মোট ১১ শিশু চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের মুখপাত্র মনজুর-এ-মুর্শেদ জানান, বুধবার পর্যন্ত ১০ শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে দুই শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। কিছুটা সুস্থ হওয়ায় একজনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুরা হামে আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে বগুড়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কেউ ভর্তি হয়নি। চিকিৎসাধীন একজনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মজিদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা সাতজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বগুড়ার সিভিল সার্জন মো. খুরশীদ আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ১৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন বগুড়ার, বাকি তিনজনের দুজন সিরাজগঞ্জের ও একজন জয়পুরহাটের। জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ১১ জন চিকিৎসাধীন। বুধবার ওই হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যু হয়। অন্যদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। পরিবারের লোকজন নমুনা দিতে রাজি না হওয়ায় মৃত শিশু হামে আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাজ্জাদ-উল হক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এখন কোনো হামের রোগী ভর্তি নেই। গত মার্চ মাসে বগুড়ার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা মোট ২৬ জন শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুজনের হাম শনাক্ত হয়।






