পারিবারিক কলহের জেরে সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান স্ত্রী। সন্তানের সঙ্গে স্বামীকে দেখাও করতে দিতেন না তিনি। এই ক্ষোভে নিজের সন্তানকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ি থেকে নিয়ে এসে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বাবা বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় মামলার পর বাবা ও প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে এ ঘটনা ঘটে।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর রায়ের গ্রাম এলাকার রাস্তার পাশ থেকে মো. লাবিব (৩) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটি একই গ্রামের দিনমজুর সোহাগ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের কারণে প্রায় এক বছর ধরে শিশুটির মা লামিয়া আক্তার হরিরামপুর রায়ের গ্রামে তাঁর বাবার বাড়িতে ছিলেন। গতকাল বুধবার বিকেলে শিশুটির বাবা সোহাগ মিয়া শ্বশুরবাড়িতে এসে সন্তানকে নিয়ে যান নিজের বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে। পরে সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে শিশুটির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ত্রিশাল থানায় নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় শিশুটির মা লামিয়া আক্তার বাদী হয়ে স্বামী সোহাগ মিয়া ও প্রথম স্ত্রী জাকিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে গফরগাঁও উপজেলার বাখুরা গ্রাম থেকে দিবারাত সোয়া তিনটায় সোহাগ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে জাকিয়া আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফিরোজ হোসেন বলেন, স্বামীর সঙ্গে কলহে শিশুটির মা তাঁর সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন। সন্তানের সঙ্গে দেখাও করতে দিতেন না। এ জন্য দ্বিতীয় স্ত্রীকে কষ্ট দিতে রাগে-ক্ষোভে সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করেন স্বামী সোহাগ মিয়া। হত্যার প্ররোচনা, সহযোগিতা ও আশ্রয়ের দায়ে সোহাগ মিয়ার প্রথম স্ত্রী জাকিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।






